ফয়সল আবদুল্লাহ: চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নতুন পেশার নাম ‘এআই ট্রেনিং স্পেশালিস্ট’। ২০২১ সালে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষক-এর জন্য জাতীয় দক্ষতা মানদণ্ড চালু করে।
এই পেশার কাজ হলো এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, তথ্য যাচাই করা এবং সফটওয়্যারকে বাস্তব কাজের জন্য প্রস্তুত করা।
পূর্ব চীনের হাংচৌ শহরের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লিংইয়াং ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজির কর্মী শু শান সম্প্রতি তৃতীয় স্তরের এআই ট্রেনার সনদ পেয়েছেন। তিনি ব্যবসায়িক ডেটা বিশ্লেষণের জন্য এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরির একটি দলের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন।
শু শানের মতে, এই সফটওয়্যারটি এমনভাবে কাজ করে যেন বহু বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন বিশ্লেষক ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান দিচ্ছেন।
লিংইয়াং ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজির সমন্বয়ক শু শান বলেন, এআই ট্রেনার সনদ পাওয়ার পর প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করে তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছি। এতে প্রযুক্তি দলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়েছে এবং পণ্য উন্নয়নও দ্রুত হচ্ছে।
এদিকে ২০২২ সালের শেষ দিকে জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থানের পর প্রযুক্তি খাতে নতুন একটি প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যার নাম ‘ভাইব কোডিং’। এতে ডেভেলপাররা স্বাভাবিক ভাষায় নির্দেশ দিলে এআই নিজেই কোড তৈরি করে। ফলে যারা প্রোগ্রামার নন, তারাও এখন সফটওয়্যার উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারছেন।
আগে একটি নতুন পণ্য উন্নয়নে কয়েক মাস এমনকি এক বছর পর্যন্ত সময় লাগত। কিন্তু এখন জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ফলে মাত্র দুই সপ্তাহেই একটি নতুন ডিজিটাল পেজ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তা মেধা কেন্দ্র, লিংইয়াং ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজির মহাব্যবস্থাপক লিন লি বলেন, আমরা প্রশিক্ষণে নতুন মডিউল যেমন প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং যুক্ত করছি, যাতে ব্যবহারকারীরা এআইকে সঠিকভাবে নির্দেশ দিতে পারেন এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে এআই এজেন্ট তৈরি করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই পেশা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিএমজি