ইউরোপে ঘণ্টাপ্রতি বেতন সবচেয়ে বেশি যে ১০ দেশে, শীর্ষে কোন দেশ

ইউরোপে কাজ করতে চান? কিংবা কোন দেশে চাকরি করলে তুলনামূলক বেশি আয় করা সম্ভব, তা জানতে আগ্রহী? সে ক্ষেত্রে শুধু একজন কর্মীর মোট বেতন বা মাসিক আয়ের পরিমাণ দেখলেই হবে না। আয়কর, সামাজিক নিরাপত্তা চাঁদা এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক কর্তন শেষে একজন কর্মীর হাতে প্রকৃতপক্ষে কত অর্থ থাকে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেতনকাঠামো, করব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তাসুবিধার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। কোথাও তুলনামূলক বেশি বেতন দেওয়া হলেও কর ও অন্যান্য কর্তনের পর প্রকৃত আয় কমে যায়। আবার কোনো কোনো দেশে শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি কর্মীদের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণও বেশ আকর্ষণীয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যের ভিত্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যেসব দেশে কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি কর-পরবর্তী আয় সবচেয়ে বেশি, সেগুলোর একটি তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে লুক্সেমবার্গ। এরপর রয়েছে ডেনমার্ক ও বেলজিয়াম। সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডের মতো উন্নত অর্থনীতির দেশও রয়েছে শীর্ষ দশে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ইউরোপের কোন ১০ দেশে কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি কর-পরবর্তী বেতন সবচেয়ে বেশি।

১০. সুইডেন: ঘণ্টায় ২৯.৫ ইউরো (প্রায় ৪ হাজার ৯৮ টাকা)

উদ্ভাবন, উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক কর্মসংস্কৃতি এবং কর্মক্ষেত্রে সমতাভিত্তিক সম্পর্কের জন্য সুইডেনের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। ইউরোপের অন্যতম উন্নত কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে দেশটিতে কর্মীদের অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মজীবনের মানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, উৎপাদনশিল্প ও সেবামূলক খাতে সুইডেনের শক্তিশালী অবস্থান দক্ষ কর্মীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

দেশটির কর্মসংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া। তুলনামূলক আকর্ষণীয় বেতন ও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ থাকলেও সুইডেনের শ্রমবাজারে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বেকারত্বের হার ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় বেশি।

৯. ফ্রান্স: ঘণ্টায় ৩০ ইউরো (প্রায় ৪ হাজার ১৬৮ টাকা)

ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ফ্রান্স। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দীর্ঘ ঐতিহ্য, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো দেশটির শ্রমবাজারকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। উৎপাদনশিল্প, পর্যটন, প্রযুক্তি, বিমান ও মহাকাশশিল্প, আর্থিক সেবা এবং বিলাসপণ্যের বাজারে ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।

দেশটিতে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সুরক্ষাসুবিধা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন এবং বেকারত্বকালীন সহায়তার মতো খাতে অর্থায়নের জন্য বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে রাখা হয়। ফলে

মোট বেতন ও কর-পরবর্তী আয়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়। তবে এসব কর্তনের পরও ফ্রান্সের কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় ইউরোপের শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে।

৮. ফিনল্যান্ড: ঘণ্টায় ৩২.৬ ইউরো (প্রায় ৪ হাজার ৫২৯ টাকা)

উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি এবং উচ্চ জীবনমানের জন্য ফিনল্যান্ডের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির মতো খাতে দেশটির অগ্রগতি দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও দেশটি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

ফিনল্যান্ডে তুলনামূলক আকর্ষণীয় বেতনের পাশাপাশি উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবে দেশটির শ্রমবাজার বর্তমানে কিছুটা চাপের মুখে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং বেকারত্বের চাপ শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলছে। তা সত্ত্বেও কর-পরবর্তী ঘণ্টাপ্রতি আয়ের বিবেচনায় ইউরোপের আকর্ষণীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিনল্যান্ড।

৭. অস্ট্রিয়া: ঘণ্টায় ৩৩.৮ ইউরো (প্রায় ৪ হাজার ৬৯৬ টাকা)

উন্নত জীবনমান, দক্ষ কর্মশক্তি এবং শক্তিশালী সামাজিক বাজার অর্থনীতির জন্য অস্ট্রিয়া ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় দেশ। দেশটির অর্থনীতিতে উৎপাদনশিল্প, প্রকৌশল, যন্ত্রপাতি নির্মাণ, পর্যটন ও সেবামূলক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষায়িত উৎপাদনশিল্পে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা থাকায় এসব খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও রয়েছে।

অস্ট্রিয়ার শ্রমবাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া। দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণের প্রচলনও রয়েছে। এসব কারণে অস্ট্রিয়া শুধু বসবাসের জন্য নয়, পেশাগত জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ইউরোপের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।

৬. জার্মানি: ঘণ্টায় ৩৪.৫ ইউরো (প্রায় ৪ হাজার ৭৯৩ টাকা)

ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানি। বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে গাড়ি নির্মাণ, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক শিল্প, প্রকৌশল, ওষুধ এবং প্রযুক্তি খাতে দেশটির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এসব শিল্পের বিকাশের সঙ্গে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের চাহিদাও বেড়েছে।

জার্মানির শ্রমবাজারে কারিগরি শিক্ষা ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশটির দ্বৈত কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন এবং প্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পান। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হয়।

কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা, পেনশন ও বেকারত্বকালীন সুরক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা রয়েছে জার্মানিতে। শক্তিশালী শিল্পভিত্তি, দক্ষ জনশক্তি এবং তুলনামূলক স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ দেশটিকে ইউরোপে কাজ করতে আগ্রহীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

৫. নেদারল্যান্ডস: ঘণ্টায় ৩৬.৩ ইউরো (প্রায় ৫ হাজার ৪৩ টাকা)

ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সরবরাহকেন্দ্র নেদারল্যান্ডস। আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন, সমুদ্রবন্দর, সরবরাহব্যবস্থা, কৃষিপ্রযুক্তি, আর্থিক সেবা এবং প্রযুক্তিশিল্পে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রটারডাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অবকাঠামো ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

নেদারল্যান্ডসের অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ফলে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্যও বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির কর্মসংস্কৃতিতে সহযোগিতা, নমনীয়তা এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, উন্নত অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশের কারণে নেদারল্যান্ডস ইউরোপে পেশাগত জীবন গড়ে তুলতে আগ্রহীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।

৪. আয়ারল্যান্ড: ঘণ্টায় ৩৬.৬ ইউরো (প্রায় ৫ হাজার ৮৫ টাকা)

গত কয়েক দশকে প্রযুক্তি, ওষুধ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। বিশ্বের অনেক বড় প্রযুক্তি ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ইউরোপীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র রয়েছে দেশটিতে। তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার উন্নয়ন, আর্থিক সেবা, চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্প দেশটির অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার সম্প্রসারণ আয়ারল্যান্ডের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক পেশায় দক্ষ কর্মীদের জন্য দেশটিতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

ইংরেজিভাষী দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক কর্মীদের কাছেও আয়ারল্যান্ডের কর্মপরিবেশ তুলনামূলক পরিচিত। প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ দেশটিকে ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় কর্মসংস্থানের গন্তব্যে পরিণত করেছে।

৩. বেলজিয়াম: ঘণ্টায় ৩৭.১ ইউরো (প্রায় ৫ হাজার ১৫৫ টাকা)

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র বেলজিয়াম। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর থাকায় দেশটির অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক সেবা, কূটনীতি, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি রাসায়নিক শিল্প, ওষুধ, উৎপাদনশিল্প ও সরবরাহব্যবস্থাও দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

বেলজিয়ামের করব্যবস্থা তুলনামূলক জটিল এবং কর্মীদের বেতন থেকে আয়কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ কেটে রাখা হয়। তবে এসব কর্তনের পরও দেশটির কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি কর-পরবর্তী আয় ইউরোপের শীর্ষ তিনে রয়েছে।

বেলজিয়ামের শ্রমবাজারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সমন্বয়ের ব্যবস্থা। এর ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়লে কর্মীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার ব্যবস্থাও দেশটির কর্মপরিবেশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

২. ডেনমার্ক: ঘণ্টায় ৪৪.৭ ইউরো (প্রায় ৬ হাজার ২১১ টাকা)

উন্নত জীবনমান, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আধুনিক কর্মসংস্কৃতির জন্য ডেনমার্ক বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশটিকে প্রায়ই আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ডেনমার্কের শ্রমবাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘ফ্লেক্সিকিউরিটি’ বা নমনীয়তা ও নিরাপত্তার সমন্বয়। এই ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তারা তুলনামূলক সহজে কর্মী নিয়োগ ও চাকরির কাঠামো পরিবর্তন করতে পারেন। অন্যদিকে চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য রয়েছে সামাজিক সুরক্ষা, বেকারত্বকালীন সহায়তা এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ।

তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, ওষুধ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং সামুদ্রিক শিল্পে ডেনমার্কের উল্লেখযোগ্য অবস্থান রয়েছে। দক্ষ কর্মীদের জন্য এসব খাতে ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব কারণেই ইউরোপে ঘণ্টাপ্রতি কর-পরবর্তী আয়ের তালিকায় ডেনমার্ক দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

১. লুক্সেমবার্গ: ঘণ্টায় ৪৯.৭ ইউরো (প্রায় ৬ হাজার ৯০৬ টাকা)

ইউরোপের ক্ষুদ্র আয়তনের দেশ হলেও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও মাথাপিছু আয়ের বিচারে লুক্সেমবার্গ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। দেশটির অর্থনীতির প্রধান ভিত্তিগুলোর একটি হলো আন্তর্জাতিক আর্থিক খাত। ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, বিমা, আর্থিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সেবায় দেশটির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।

লুক্সেমবার্গের অর্থনীতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানির কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে দেশটিতে বহুজাতিক ও বহুভাষিক কর্মপরিবেশ গড়ে উঠেছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও বেলজিয়ামের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ লুক্সেমবার্গে কাজ করতে আসেন।

উচ্চ বেতনের পাশাপাশি দেশটিতে উন্নত সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তুলনামূলক ছোট অর্থনীতির দেশ হয়েও আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতে শক্তিশালী অবস্থান এবং দক্ষ কর্মীদের উচ্চ চাহিদার কারণে ঘণ্টাপ্রতি কর-পরবর্তী আয়ের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছে লুক্সেমবার্গ।

ইউরোপে বেশি বেতন মানেই কি বেশি সঞ্চয়?

ইউরোপের যেসব দেশে ঘণ্টাপ্রতি কর-পরবর্তী বেতন বেশি, সেসব দেশে চাকরি করার আগ্রহ অনেকেরই থাকতে পারে। তবে শুধু বেতনের অঙ্ক দেখে কোনো দেশে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কারণ একটি দেশের জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসাভাড়া, যাতায়াত, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচও ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

উদাহরণ হিসেবে, লুক্সেমবার্গ বা ডেনমার্কে ঘণ্টাপ্রতি আয় তুলনামূলক বেশি হলেও এসব দেশে বসবাসের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য। আবার অন্য কোনো দেশে বেতন কিছুটা কম হলেও বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ কম হওয়ায় মাস শেষে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে কাজের অনুমতি, ভিসা, পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি, ভাষাগত দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের চাকরির চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই ইউরোপে চাকরির পরিকল্পনা করার আগে বেতন, কর, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে ইউরোপের শীর্ষ দশ দেশের এই তালিকা দেখায়, উচ্চ বেতনের পাশাপাশি শক্তিশালী অর্থনীতি, দক্ষ জনশক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আধুনিক কর্মপরিবেশ কর্মীদের আর্থিক ও পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইউরোপে সবচেয়ে বেশি বেতন, ইউরোপে চাকরি, ঘণ্টাপ্রতি বেতন, ইউরোপের ১০ দেশ, কর-পরবর্তী আয়, ইউরোস্ট্যাট।