বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারে চীনের প্রস্তাব: শ্বেতপত্রে প্রধান দেশগুলোর দায়িত্বে জোর

খোং চিয়া চিয়া প্রেমা, সংবাদকর্মী, সিএমজি বাংলা

 

 

বিশ্ব শাসনব্যবস্থা মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আরও ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক একটি বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণের এখন অভিন্ন প্রত্যাশা।

১৭ জুন চীন সরকার ‘আরও ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা: চীনের ধারণা, উদ্যোগ ও কার্যক্রম’ শীর্ষক একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে বিশ্ব নানা জটিল সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ প্রেক্ষাপটে আরও কার্যকর বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ‘বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ’ উত্থাপন করেন। ‘কেমন বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত’ এবং ‘কীভাবে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে সংস্কার ও উন্নত করা যায়’—এসব যুগোপযোগী প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সেটাকে একটি চীনা প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

১৭ জুন সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ হলো বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ, বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগের পর বিশ্বের জন্য প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রস্তাবিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গণ-উপাদান। এটি একদিকে যেমন বিভিন্ন দেশের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নের অভিন্ন চাহিদার প্রতি সাড়া দেয়, অন্যদিকে মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের নতুন পথ উন্মুক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সভ্যতার বিকাশে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

শ্বেতপত্রে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, চীনের ধারণা ও কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সমাজে ক্রমবর্ধমান সমর্থন ও সাড়া পাচ্ছে। এর মূল কারণ হলো সময়ের প্রয়োজন অনুধাবন করে যথাযথ নেতৃত্ব প্রদান, চীনের অভিজ্ঞতাকে বিশ্বকল্যাণে কাজে লাগানো এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পথও উন্মুক্ত করা। এর মাধ্যমে মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে জ্ঞান ও শক্তির অবদান রাখাও সম্ভব হচ্ছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চীন নিজেকে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, অবদানকারী ও নির্মাতা হিসেবে দেখে।

শ্বেতপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শাসনব্যবস্থাকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। পুরনো সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি নতুন ক্ষেত্রগুলোতে চলমান নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতাও পূরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীন একটি দায়িত্বশীল প্রধান দেশের ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং আন্তর্জাতিক গণ-উপকরণ সরবরাহ ও বৈশ্বিক শাসনের নতুন ধারণা প্রস্তাবের মাধ্যমে ইতিবাচক অবদান রাখছে।

শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগকে আরও গভীর ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রধান দেশগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিষয়ে গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া, তাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা একটি ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়াও দ্যইয়ু বলেন, চীন সবসময় সত্যনিষ্ঠা, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার নীতি অনুসরণ করে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে ঐক্য ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শ্বেতপত্রে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন, যা একটি ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে অপরিহার্য।

বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগ উত্থাপনের তিন বছরেরও বেশি সময়ে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ‘ঐচ্ছিক কর্মসূচি’ থেকে ক্রমেই ‘অপরিহার্য পদক্ষেপে’ পরিণত হয়েছে।

ভবিষ্যতে চীন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে, বিভাজন ও সংঘাতের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলতে এবং মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

china