বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং।
বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফু বলেন, নারীরা ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি’।
তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমেই আরও অস্থির হয়ে উঠছে। দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে নারীদের পুরোপুরি মুক্তকরণ, শান্তি প্রক্রিয়ায় তাদের গভীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাদের সার্বিক উন্নয়ন বাস্তবায়নের পথ এখনও দীর্ঘ। এসব লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান তিনি।
ফু বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬৭ কোটি ৬০ লাখ নারী ও কিশোরী সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে আটকে রয়েছে। গাজা যুদ্ধ, হাইতিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা এবং পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা তার উদাহরণ। অসংখ্য নারী ও কিশোরী বছরজুড়ে ভয় ও হতাশার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। শান্তি ছাড়া নারীর অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।‘
তিনি বলেন, ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে লিঙ্গসমতা অর্জনের জন্য বার্ষিক অর্থায়নের ঘাটতি প্রায় ৪২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি উন্নত দেশগুলোর প্রতি তাদের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘে চীনের এই স্থায়ী প্রতিনিধি জোর দিয়ে বলেন, ‘নারীর উন্নয়নে চীন সবসময়ই বৈশ্বিক পর্যায়ে এক সক্রিয়ভাবে অবদান রাখা দেশ।‘ তিনি জানান, চীন এ পর্যন্ত বারোশ’র বেশি নারী শান্তিরক্ষী সদস্য পাঠিয়েছে, ১৮০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের দুই লক্ষাধিক নারী পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং ২০টিরও বেশি দেশে চার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের নারী ক্ষমতায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
সিএমজি