বিপদ কখনো আগাম বার্তা দিয়ে আসে না। জীবনের সুসময়ে চারপাশে মানুষের অভাব হয় না, কিন্তু দুঃসময়ে পাশে থাকার মানুষের সংখ্যা খুবই কম। বিপদ যেন জীবনের এক আয়না, যেখানে মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায়।
জীবনের পথে চলতে গিয়ে কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়; কত বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে; কতজন আপন ভেবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। মনে হয়, পুথিবী জুড়ে আমাদের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ছড়িয়ে আছে। কিন্তু সময়ের সামান্য পরিবর্তন কিংবা বিপদের একটি ঝাপটা এলেই বোঝা যায়, চারপাশে মানুষের ভিড় থাকলেও পাশে থাকার মতো মানুষ খুরই সীমিত।
কেউ সামান্য আন্তরিকতা দেখালেই তাকে আপন ভেবে বসি; প্রয়োজনে নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করি না। অথচ কখনো সবচেয়ে গভীর আঘাত আসে সেই মানুষের কাছ থেকেই, যাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করি।
সুসময়ে সঙ্গী অনেক, দুঃসময়ে হাত ধরে রাখে প্রকৃত আপনজন।
তবু বন্ধুত্বে বিশ্বাস হারানো নয়, বরং আবেগের সঙ্গে বিবেচনাবোধ রাখা জরুরি। সবাইকে ভালোবাসা যায়, কিন্তু সবাইকে সমানভাবে বিশ্বাস করা যায় না। সম্পর্কের গভীরতা কথায় নয়, প্রমাণিত হয় আচরণে; বন্ধুত্বের সত্যতা প্রতিশ্রুতিতে নয়, প্রকাশ পায় প্রয়োজনে।
প্রকৃত বন্ধু শুধু আনন্দের দিনে নয়; সে দুঃসময়ে হাত ধরে। যে বন্ধু আপনার দুর্বলতাকে উপহাস করে না, বরং সাহস জোগায়-সেই বন্ধুই জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। কারণ, বিপদের দিনে পাশে থাকা মানুষই হৃদয়ে তৈরি করে আত্মবিশ্বাস, ভরসা ও শক্তি।
আমাদেরও একবার ভেবে দেখা উচিত-আমরা নিজেরা কেমন বন্ধু? অন্যের কাছে প্রত্যাশা করার আগে আমরা কি কারও প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াই? বন্ধুত্ব কি শুধু নিজের প্রয়োজনে মানুষকে মনে করা, নাকি অন্য্যর দুঃসময়ে নিজের সময়, শ্রম ও সামর্থ্য থেকে কিছুটা বিলিয়ে দেওয়া? মনে রাখতে হবে, প্রকৃত বন্ধুত্ব কেবল পাওয়ার নাম নয়; এটি দেওয়ারও নাম।
জীবন সুন্দর হয় যখন আমরা শুধু সত্যিকারের বন্ধু খুঁজি না, নিজেরাও কারও নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠি। তাই, আজ হৃদয়ের গভীর থেকে একটাই কথা বলতে ইচ্ছে করে-