চীনের উদ্যোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক উন্নয়নে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করেছে

 

 

১৭ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন, ২০২৬’ তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনবিষয়ক উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক। সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নৈতিক উন্নয়নে চীনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তার ব্যবধান পূরণে সহায়তা করার জন্য চীনের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের তারিফ করেন। তাঁরা মনে করেন, একটি দায়িত্বশীল বড় রাষ্ট্র হিসেবে, এটি কেবল চীনের দায়িত্বশীলতাই প্রদর্শন করেনি, বরং বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুস্থ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল উন্নয়নে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী চালিকাশক্তিও যুগিয়েছে।

এবার সম্মেলনের মোট প্রদর্শনী এলাকা প্রথমবারের মতো ১ লাখ বর্গমিটার ছাড়িয়ে যায়, যেখানে ১,১০০-এর বেশি চীনা ও বিদেশি সংস্থা অংশগ্রহণ করে। সম্মেলনস্থলে প্রদর্শিত অসংখ্য পণ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান গতি তুলে ধরা হয় এবং চীনা ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং শিল্প-প্রতিনিধিরা এই শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে, মানবাকৃতির ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা রোবটগুলো মোড়গুলোতে এদিক-ওদিক যাতায়াত করে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছিল, যা প্রযুক্তির এক জোরালো আবহ তৈরি করে।

বস্তুত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি নতুন ঢেউ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং চীন এই ঢেউয়ের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের এই দ্রুত অগ্রগতির গতিকে নিশ্চিত করে: দৈনিক মেটা-কলের পরিমাণ ট্রিলিয়নে পৌঁছেছে; ওপেন-সোর্স মডেলের বিশ্বব্যাপী মোট ডাউনলোড ১০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে; অ্যাটমগিট-এর মতো ওপেন-সোর্স কমিউনিটিতে ১১ মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী যুক্ত হয়েছে…।

একটি দায়িত্বশীল পরাশক্তি হিসেবে, চীন সক্রিয়ভাবে তার এআই উন্নয়নের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত সাফল্য বিশ্বের সাথে ভাগ করে নেয়। রুয়ান্ডার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অফ কিগালির ফ্যাকাল্টি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন জ্যঁ বোস্কো মুসাবে বলেন, “চীনের ওপেন-সোর্স এআই মডেলের জোরালো উন্নয়ন বৈশ্বিক এআই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।” তিনি মনে করেন, ওপেন-সোর্স এআই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধা কমায় এবং সীমিত সম্পদের দেশগুলোকে স্থানীয় উদ্ভাবন বিকাশের সুযোগ করে দেয়।

আগামী পাঁচ বছরে চীন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য, এআই-সম্পর্কিত বিশেষায়িত ক্ষেত্রে ৫ হাজার প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করবে এবং আসিয়ান, আরব লীগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, সিইএলএসি, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং ব্রিকস দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক এআই অ্যাপ্লিকেশন সহযোগিতা কেন্দ্র স্থাপন করবে। সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর নেটওয়ার্ক সায়েন্সের পরিচালক ওয়েন্ডি হল বলেন, “এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, চীন দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গিতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব ও মানবতার উপকার করতে সচেষ্ট।”

এআই বৈশ্বিক সহযোগিতামূলক দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমনের জন্যও নতুন পথ খুলে দিয়েছে। চীনের বুদ্ধিমান আবহাওয়া-সংক্রান্ত আগাম সতর্কীকরণ-ব্যবস্থা বা “মাচু” পাকিস্তান, ইথিওপিয়া এবং সলোমন দ্বীপপুঞ্জের মতো দেশগুলিতে কার্যকর প্রমাণিহ হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে চীন, ৩০টি দেশে “মাচু”-এর প্রয়োগকে প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে।

শাংহাইয়ে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতা ও উন্নয়নের জন্য কর্ম-পরিকল্পনা”, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক শাসনের জন্য আন্তর্জাতিক কর্ম-পরিকল্পনা”, এবং “বুদ্ধিমান এজেন্টদের পারস্পরিক আস্থা, আন্তঃসংযোগ এবং আন্তঃকার্যক্ষমতার ওপর বৈশ্বিক সহযোগিতা উদ্যোগ”-সহ একাধিক ফলাফল-সংক্রান্ত নথি সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে চীনের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপগুলো ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছে।

সূত্র: সিএমজি বাংলা