ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের সংকট তৈরি হলেও দেশের মানুষ যাতে জ্বালানি সমস্যায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত দুর্বল। এর মধ্যে জ্বালানি সংকট ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি স্বীকার করেন যে, দেশের বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে ভুগছেন। সাধারণ মানুষ এবং শিল্পকারখানার মালিকদের এই ভোগান্তির জন্য দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোকে কেবল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না বর্তমান সরকার। বরং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে দেশবাসীকে আর এমন সংকটের মুখোমুখি হতে না হয়।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার সাধ্যমতো দেশের বাজারে দাম অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত জ্বালানির মূল্য কিছুটা সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে সম্প্রতি পাস হওয়া বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমাদের প্রতিটি কাজের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের জনগণ।’’ স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিটি সংকটকালীন সময়ে জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিধ্বস্ত অর্থনীতি সামলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।