দেশের ৬৪টি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের হুইপকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালিবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০০৩ সালের একটি রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায়ের আলোকে এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, যা সরকারের এখতিয়ারভুক্ত বলে জানানো হয়। তবে এই দায়িত্ব পালনের ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সাংবিধানিক সংস্থার নিজস্ব আইনি ক্ষমতা খর্ব হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভা লক্ষ্য করেছে যে, বিগত ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট করা হয়েছে। এই লুট করা অর্থ বিদেশে পাচারসহ মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতি নির্মূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারি দপ্তরগুলোকে পরামর্শ দেবেন। এর মধ্যে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাদের ওপর ন্যস্ত থাকবে। প্রয়োজনে তারা জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা নিম্নরূপ: ইকবাল হাসান মাহমুদ (রাজশাহী ও নাটোর), ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়), আব্দুল আউয়াল মিন্টু (লক্ষ্মীপুর), নিতাই রায় চৌধুরী (চুয়াডাঙ্গা), খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (হবিগঞ্জ), আরিফুল হক চৌধুরী (মৌলভীবাজার), মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী (চট্টগ্রাম), এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা), আসাদুল হাবিব দুলু (ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর), মো. আসাদুজ্জামান (খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট), জাকারিয়া তাহের (ফেনী ও নোয়াখালী), সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল (মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ), সাচিং প্রু (কক্সবাজার), মো. শরীফুল আলম (টাঙ্গাইল ও নরসিংসী), শামা ওবায়েদ ইসলাম (মাদারীপুর ও শরীয়তপুর), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ), আব্দুল বারী (বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ), সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু (ঢাকা), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি), হাবিবুর রশিদ (গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ), মো. রাজীব আহসান (বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর), মীর শাহে আলম (রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম), ফারজানা শারমিন (সিরাজগঞ্জ ও পাবনা), শেখ ফরিদুল ইসলাম (যশোর, মাগুরা ও নড়াইল), ইয়াসের খান চৌধুরী (জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ), আহমেদ সোহেল মঞ্জুর (বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি), মোহাম্মদ শামীম কায়সার (জয়পুরহাট ও নওগাঁ), আলহাজ মো. জি কে গউস (সিলেট ও সুনামগঞ্জ), মিয়াঁ নুরুদ্দিন আহম্মেদ (রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ) এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের হুইপকে দিয়েছে সরকার।