দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: সাত মাসে সহিংসতার চিত্র

দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার চিত্র আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই—এই সাত মাসে সারা দেশে অন্তত ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু প্রাণ হারিয়েছেন। দেশের ১৪টি জাতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে ৬৩টি ঘটনা সরাসরি ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ ও মামলা-মোকদ্দমার জেরে অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটেছে। ডা. ফওজিয়া মোসলেম সতর্ক করে বলেন, সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য পাওয়া গেলে এই সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, গত সাত মাসে মোট ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “এসব ঘটনা প্রমাণ করে, নারী ও শিশুরা দেশের কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সহিংসতার প্রবণতা আমরা কমাতে পারছি না।”

মানববন্ধন থেকে নারী ও শিশুর প্রতি প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নেতারা। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীসহ সমাজের সব মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে এবং বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে আটকে রাখা যাবে না এবং অধিকার আদায়ে তারা সবসময় সোচ্চার থাকবে।

নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন মহিলা পরিষদের নেতারা। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব জেলা শাখায় একই সময়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি ও সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবনারী সহিংসতানিরাপত্তাবাংলাদেশ মহিলা পরিষদমানবাধিকার