অর্থনীতিকে নতুন প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী নীতির প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন

সাকিব সিকান্দার

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব পর্যায়ের বৈঠক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দেশটির কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অর্থনীতিকে নতুন প্রবৃদ্ধির ধারায় এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী অতিরিক্ত নীতি গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নতুন প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হবে উন্নত প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামো। চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের (এনডিআরসি) দুই অর্থনীতিবিদ এ মন্তব্য করেন।

এনডিআরসি’র ম্যাক্রোইকোনমিক গবেষণা একাডেমির সিদ্ধান্ত পরামর্শ বিভাগের পরিচালক সুন শুয়েকোং এবং এনডিআরসি’র রাষ্ট্রীয় তথ্যকেন্দ্রের উপপরিচালক শেং ল্যই ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের অর্থনৈতিক কাজ নিয়ে পলিটব্যুরোর বৈঠকের মূল বার্তা সম্পর্কে চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সামনে মতামত তুলে ধরেন।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে বলা হয়, বহির্বিশ্বের ধাক্কা এবং অভ্যন্তরীণ চাপ থাকলেও চীনের অর্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি তৈরি হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নতি ঘটছে।

বৈঠকে জোর দিয়ে বলা হয়, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য পুরনো প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি থেকে নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের গতি আরও বাড়াতে হবে।

সুন শুয়েকোং বলেন, বৈঠকে চীনের অর্থনৈতিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান শিল্প দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন এবং ডিজিটাল পণ্য উৎপাদন— এ দুটি উদীয়মান শিল্প দেশের মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ হলেও, এগুলো চীনের শিল্পখাতের মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৫০ শতাংশ অবদান রাখছে। এটি চীনের অর্থনৈতিক কাঠামোর অত্যন্ত ইতিবাচক রূপান্তরের প্রতিফলন।‘

শেং ল্যই বলেন, ‘এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে এমন এক ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া, যেখানে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তির পরিবর্তন, অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার একসঙ্গে বাস্তবায়িত হবে।‘

তিনি বলেন, “লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে ধারাবাহিকভাবে ‘নতুনত্ব, কাঠামোগত উন্নয়ন এবং গুণগত অগ্রগতি’র পথে এগিয়ে নেওয়া। এখানে ‘নতুনত্ব’ বলতে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তির পরিবর্তন, ‘কাঠামোগত উন্নয়ন’ বলতে অর্থনৈতিক কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং ‘গুণগত অগ্রগতি’ বলতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে বোঝানো হয়েছে। এই তিনটি পরস্পর-সম্পর্কিত লক্ষ্য শুধু কৌশলগত দিকনির্দেশনাই দেয় না, বরং আস্থা জোগায় এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপও নির্ধারণ করে।”

সূত্র: সিএমজি বাংলা