বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তোং চুন। বৃহস্পতিবার বেইজিং সিয়াংশান ফোরামের ১৩তম আসরে তিনি এ আহ্বান জানান।
বেইজিংয়ে ফোরামে অংশ নেওয়া উত্তর কোরিয়া, মৌরিতানিয়া, গ্যাবন ও সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তোং চুন বলেন, বিশ্বে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা যত গভীর হবে, বিশ্ব তত নিরাপদ হবে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনের সামরিক বাহিনী ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সব মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে বিবেচনায় রেখে দেশগুলোর উচিত একে অপরকে সম্মান করা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো এবং আরও ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
‘স্থিতিশীলতার বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলা, যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এগিয়ে নেওয়া’—এই প্রতিপাদ্যে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ফোরামে শতাধিক দেশ, অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ২ হাজার প্রতিনিধি, গবেষক ও পর্যবেক্ষক অংশ নেন।
এ বছর বেইজিং সিয়াংশান ফোরামের ২০ বছর পূর্তি হয়েছে। ২০০৬ সালে ‘ট্র্যাক-টু’ পর্যায়ের থিংকট্যাংক সংলাপ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই ফোরাম বর্তমানে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
ফোরামে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের প্রবণতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, বৃহৎ শক্তিগুলোর সম্পর্ক ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং সামরিক ক্ষেত্রে উদীয়মান প্রযুক্তির ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
পর্তুগালের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও লিসবনের অটোনোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কার্লোস ব্র্যাঙ্কো বলেন, চীনের প্রস্তাবিত বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ মূলত- সার্বভৌম সমতা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, বহুপাক্ষিকতা, জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব পদক্ষেপ—এই পাঁচ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
বেইজিং সিয়াংশান ফোরাম সচিবালয়ের পরিচালক লি শুয়িইন বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা। সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য কমিয়ে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই ফোরামটি কাজ করছে।
সূত্র: সিএমজি