ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা এগিয়ে নিতে সব পক্ষকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান চীনের

ইরানের পরমাণু ইস্যুর সমাধানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথই একমাত্র কার্যকর উপায় বলে মন্তব্য করেছে চীন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরুর পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু ছোং বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে ইরান পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে সরে যাওয়া এবং তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার কারণেই সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

চীনা প্রতিনিধি বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহারে ইরানের অধিকারকে অন্য পক্ষগুলোর সম্মান জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সমাধানে আইএইএ ও ইরানের মধ্যে সংলাপ এবং সহযোগিতার পথও সমর্থন করতে হবে।

ফু বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। পাশাপাশি সামরিক চাপের হুমকিমুক্ত পরিবেশে যেন সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এ পরিস্থিতিতে সামরিক চাপ ও একতরফা সামরিক পদক্ষেপ বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে বিচক্ষণতা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও অব্যাহত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

ব্রিফিংয়ে ফু আরও বলেন, ইরান পরমাণু চুক্তির অনুমোদনকারী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়েছে। তাঁর মতে, এ কারণে নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ইরান পরমাণু ইস্যুটি নিয়ে পর্যালোচনা বন্ধ করা উচিত।

সূত্র: সিএমজি