বিশ্বে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপটের ফলে মেমোরি চিপের বাজারে বড় ধরনের সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে চীনের মেমোরি চিপ নির্মাতারা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিপ শিল্পের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২০২৮ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
আইডিসি চায়নার রিসার্চ ম্যানেজার শিন ই-এর মতে, মেমোরি চিপের দাম বাড়ার মূল কারণ কেবল সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদা বৃদ্ধি নয় বরং এআই চিপের উৎপাদন বাড়ার ফলে প্রচলিত চিপের ওপর তৈরি হওয়া প্রভাব বা ‘সাইফনিং ইফেক্ট’। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, চিপ নির্মাতারা তাদের উৎপাদন লাইনগুলোকে অধিক লাভজনক এআই চিপ উৎপাদনের উপযোগী করে তুলছে। যার ফ কমছে প্রচলিত মেমোরি চিপের উৎপাদন। এদিকে, সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ক্লাউড সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগেই পণ্য মজুদ করতে শুরু করেছে, যা বাজারে এক ধরনের প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কিত ক্রয়ের জন্ম দিয়েছে।
চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বাড়ানোর গতি বাড়াচ্ছে। শেনজেনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘বিউইন স্টোরেজ টেকনোলজি’ এন্টারপ্রাইজ-লেভেলের মেমোরি মডিউলের উৎপাদন সক্ষমতায় বড় বিনিয়োগ করেছে। এই চিপ সংকটের ফলে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স, এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রনের মতো শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতাদের শেয়ারের দামও বেড়েছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের বাজার মূলধন এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
সিএমজি বাংলা