চীনের ইতিহাসে লং মার্চ বা দীর্ঘ পদযাত্রা এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৩৪ সালে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক যাত্রার স্মৃতি আজও ধরে রেখেছেন চীনের অনেক মানুষ। সেই ইতিহাস ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গান গেয়ে চলেছে ‘লং মার্চ অরিজিন কয়ার’। চীনের চিয়াংসি প্রদেশের ইউতু কাউন্টিতে গড়ে ওঠা এই সংগীতদলের সদস্যরা তাদের কণ্ঠে তুলে ধরছেন লালফৌজের ইতিহাস ও সংগ্রামের গল্প।
২০২৬ সালে লং মার্চের বিজয়ের ৯০ বছর পূর্তি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ঐতিহাসিক এই যাত্রার স্মৃতিবিজড়িত ইউতু কাউন্টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
১৯৩৪ সালে ইউতু নদী পার হয়ে ৮০ হাজারের বেশি রেড আর্মির সৈন্য লং মার্চ শুরু করেন। প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ যাত্রা চীনের আধুনিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মার্কিন সাংবাদিক হ্যারিসন স্যালিসবারি এই যাত্রাকে ‘এক মহান মানব মহাকাব্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
ইউতুতে লং মার্চ শুরুর স্মৃতিবিজড়িত জাদুঘরের সামনে একটি পাথরের ফলকে খোদাই করা রয়েছে ‘লং মার্চ অরিজিন’ শব্দগুলো। এর অর্থ দীর্ঘ পদযাত্রার উৎসস্থল। এই নাম শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থানকে চিহ্নিত করে না, বরং লং মার্চের স্মৃতি ও চেতনার প্রতি স্থানীয় মানুষের গভীর শ্রদ্ধাও তুলে ধরে।
ইউতুর অনেক পরিবারের সঙ্গে লং মার্চের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে শুনে আসছেন সেই সময়ের নানা ঘটনা ও সংগ্রামের গল্প।
এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘লং মার্চ অরিজিন কয়ার’। এতে রয়েছেন বিভিন্ন পেশার শতাধিক মানুষ। তাদের অনেকেই লাল ফৌজের সৈন্যদের বংশধর।
২০১১ সালের ৩০ জুন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠার ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথমবার মঞ্চে পরিবেশনা করে কয়ারটি। এরপর থেকে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করে আসছে দলটি।
এ পর্যন্ত ৭৩০টিরও বেশি বিনা মূল্যের পরিবেশনা করেছে তারা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, লং মার্চের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে।
কয়ারটির পরিচালক চু ওয়েইমিন আশা প্রকাশ করেছেন, লং মার্চের বিজয়ের শতবর্ষ পূর্তির মধ্যে তাঁদের পরিবেশনার সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাবে।
আফরিন মিম
সিএমজি বাংলা।