আফরিন মিম
সবুজ পাহাড়, ঘন বাঁশবাগান আর নিস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝখানে হঠাৎই দেখা মিলল একঝাঁক গোলগাল পান্ডার। কেউ নিশ্চিন্তে বাঁশ খাচ্ছে, কেউ গাছের ডালে ঝুলে অলস বিকেল কাটাচ্ছে। আর ছোট্ট পান্ডাগুলো? তারা মায়ের পিছু ছাড়ছে না এক মুহূর্তও। কখনো খেলছে, কখনো দুষ্টুমি করে মাকে বিরক্ত করছে। এমন দৃশ্য দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় কী।
চীনের ছেংতুর রিসার্চ বেস অব জায়ান্ট পান্ডা ব্রিডিংয়ে প্রথমবার এসে ঠিক এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল তরুণ। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় জায়ান্ট পান্ডা ‘হুয়া হুয়া’কে কাছ থেকে দেখা, মা ও বাচ্চা পান্ডার খুনসুটি উপভোগ করা—সব মিলিয়ে তাদের কাছে এটি যেন স্বপ্নের এক দিন ছিল।
এক শিক্ষার্থী বলছিলেন, ‘ছবিতে পান্ডাকে অনেকবার দেখেছি। কিন্তু সামনে থেকে যে ওরা এতটা মিষ্টি, তা আগে বুঝিনি। গাছের ডালে ওদের ঝুলে থাকা কিংবা নিশ্চিন্তে খাবার খাওয়া দেখেই সময় কেটে যাচ্ছিল। সবচেয়ে ভালো লেগেছে একটি ছোট্ট পান্ডাকে তার মায়ের সঙ্গে দুষ্টুমি করতে দেখে। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।‘
তবে এই সফর শুধু পান্ডা দেখা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পান্ডার খাবার তৈরিতে অংশ নেন। কীভাবে তাদের যত্ন নেওয়া হয়, সংরক্ষণ করা হয় সেসবও কাছ থেকে জানার সুযোগ পান। ফলে পান্ডার প্রতি মুগ্ধতার পাশাপাশি বন্য প্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্বও নতুন করে উপলব্ধি করেন তারা।
পরে তাদের গন্তব্য ছিল চীনের ঐতিহ্যবাহী ছায়া পুতুল নাচ বা শ্যাডো পাপেট্রির জাদুঘর। শতাব্দী প্রাচীন এই লোকশিল্পের ইতিহাস জানার পাশাপাশি নিজেরাও তৈরি করেন ছোট ছোট পাপেট।
নিজের তৈরি একটি পান্ডা পাপেট দেখিয়ে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি এর পোশাকে উজ্জ্বল রং ব্যবহার করেছি। আমার মনে হয়েছে, এটাই এর চরিত্রের সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই। শিল্পীরা যেভাবে এই পুতুলগুলোর মধ্যে প্রাণ এনে দেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। সুযোগ পেলে আমি এই শিল্প আরও শিখতে চাই।‘
সফরের পরবর্তী গন্তব্য প্রায় সাড়ে চার হাজার বছরের প্রাচীন সানসিংতুই ধ্বংসাবশেষ এবং উডব্লক নিউ ইয়ার প্রিন্টের একটি ঐতিহ্যবাহী জাদুঘর। ইতিহাস, সংস্কৃতি আর লোকশিল্পের নানা দিক জানার মধ্য দিয়ে চীনকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছেন এই তরুণেরা।
সূত্র: সিএমজি