নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল ঘরবাড়ি নির্মাণ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে পালিত হলো ৩৭তম আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। দিবসটিতে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে দুর্যোগ সহনশীলতা গড়ে তোলা এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি ও জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চীন তাদের জনকেন্দ্রিক ও কার্যকর প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে বৈশ্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
চীন ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক সেন্টারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চীনের ভূকম্পন আগাম সতর্কতা পাবলিক সার্ভিস সিস্টেমটি বর্তমানে ৪০ কোটি ব্যবহারকারীকে কভার করছে, যার মধ্যে ২২ কোটিরও বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী সরাসরি ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট পাচ্ছেন। সতর্কবার্তার গতি ও নির্ভুলতা আরও বাড়াতে এই প্রযুক্তিতে যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিগ ডেটা।
ভূমিকম্পের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও বেগবান করা হয়েছে। ভূকম্পন বিজ্ঞান আন্তর্জাতিক ডেটা সেন্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের তিংরি কাউন্টিতে আঘাত হানা ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের সময় একটি বৃহৎ এআই মডেল ভূমিকম্পের আগের ৪৫২টি ঘটনা এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী ৪২৯টি আফটারশক সফলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে গঠিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সহযোগিতা মেকানিজম’-এর পরিধি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল মিটিং অনুসারে, এই জোট ২৭টি দেশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪টি দেশ ও ৩টি আন্তর্জাতিক সংস্থায় উন্নীত হয়েছে। এই উদ্যোগের সুফল লাভ করছে বিশ্বের ৫টি মহাদেশের ৮০টিরও বেশি দেশ।
সূত্র: সিএমজি