বিশ্বজুড়ে পিএলএর ৯৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: শান্তি, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বার্তা

৯৯ বছরে পা রাখল চীনের গণমুক্তি ফৌজ বা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের। এসব আয়োজনে বিভিন্ন দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী মিশনের উদ্যোগে নিউইয়র্কে আয়োজিত সংবর্ধনায় দুই শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা পিএলএর দীর্ঘ পথচলা, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

আফ্রিকার জিবুতিতে চীনা দূতাবাস এবং পিএলএ সাপোর্ট বেসের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনার অন্যতম আকর্ষণ ছিল চীনের সামরিক আধুনিকায়ন নিয়ে বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে পিএলএর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

একইভাবে কিউবা, সার্বিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাসগুলোতেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দেশের অতিথিরা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় চীনা সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর রাজনৈতিক অধিদপ্তরের প্রধান ভিক্টর রোহো রামোস বলেন, “চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি বাহিনী এবং এটি জনগণের সুরক্ষায় কাজ করে।”

১৯২৭ সালের ১ আগস্ট জাতীয় স্বাধীনতা এবং চীনা জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে পিএলএর যাত্রা শুরু হয়। প্রায় এক শতাব্দীর এই পথচলায় বাহিনীটি শুধু দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারই করেনি, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি সামরিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে।

চীন বলছে, পিএলএর দায়িত্ব কেবল দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা নয়; আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠাতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখা। সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে দেশটি।

১৯৯০ সাল থেকে চীন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত দেশটি ২৬টি শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করেছে এবং ২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী পাঠিয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠনে এসব শান্তিরক্ষী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

সূত্র: সিএমজি