২৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেপাল ও চীনের সিচাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও ভূমিধসের ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে সিচাংয়ের শিগাতসে শহরের গিরং জেলায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গিরং বন্দরের সড়ক ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলছে।
এ পর্যন্ত স্থানীয় গ্রামের দুজন বাসিন্দাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি। দুর্গত এলাকার আরও ৪৯৯ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভূমিধসের পর সিচাংয়ের পরিবহন বিভাগ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে গিরং বন্দরে যাওয়ার দুর্গত এলাকার সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করেছে। ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার সড়ক মেরামত করা হয়েছে।
দুর্গত এলাকায় স্থানীয় সরকার চাল, ময়দা, তেল, তাঁবু, কম্বল, রেইনকোট, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও দুধসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট ৮৬ জন বিশেষজ্ঞ ও কর্মী পাঠিয়ে দুর্গত এলাকার পাহাড়, সড়ক, স্থাপনা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
২৭ আগস্ট পর্যন্ত চীনের জাতীয় অগ্নি ও উদ্ধার ব্যুরোর সূত্রে জানা গেছে, মোট ৬৮১ জন দমকলকর্মী, ১১৩টি উদ্ধারকারী যান, ১৩টি উদ্ধারকারী কুকুর এবং ৪৭টি ড্রোন গিরং জেলার ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছেছে।
চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে জানা গেছে, নেপালে উচ্চভূমির হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট ধারাবাহিক বিপর্যয়ের প্রবাহ গিরং বন্দরের দিকে ধেয়ে আসে। এই হিমবাহ ধসের গড় গতি সেকেন্ডে ৫০ মিটারেরও বেশি হওয়ায় মাত্র সাত মিনিটে তা উচ্চভূমি থেকে বন্দরের দিকে পৌঁছে যায়। গিরং বন্দরের কাছে বসবাসকারী মানুষ এবং স্থাপনাগুলো মূলত উপত্যকার দুই পাশের সমতল এলাকায় থাকায় কম সময়ে ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আগামী কয়েক দিনে গিরং বন্দরে আবারও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। নেপালের পাশেও ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই দ্বিতীয় পর্যায়ের দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা জরুরি তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২৮ আগস্ট থেকে সিচাংয়ের শিগাতসে শহরের ইলেকট্রনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এলাকার পাস-পত্র কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
সূত্র: সিএমজি