আফরিন মিম
ভোর থেকে রাত ব্যস্ত সময় কাটে লি ওয়েইচিয়ার। হাতে যন্ত্রপাতি, চোখে সতর্ক দৃষ্টি। ট্রেনের প্রতিটি বৈদ্যুতিক সার্কিট ও যন্ত্রাংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করাই তার প্রতিদিনের কাজ। ছোট কোন ত্রুটিও যেন যাত্রীর নিরাপত্তায় হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনের এই নারী মেকানিক।
১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া লি ওয়েইচিয়া কাজ করেন থিয়েনচিনের একটি ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণ ঘাঁটিতে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে যখন ট্রেনে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়, তখন তার কর্মব্যস্ততাও বাড়ে। প্রতিদিন শতাধিক ইএমইউ মেকানিক পালাক্রমে দিন-রাত কাজ করেন, যেন প্রতিটি ট্রেন পরীক্ষা শেষে নিরাপদে যাত্রার জন্য প্রস্তুত থাকে।
এই ব্যস্ত দলেরই একজন লি। ট্রেনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করেন। তার কাছে প্রতিটি পরীক্ষা শুধু একটি দায়িত্ব নয় বরং যাত্রীর নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
রেলওয়েতে যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর দিকে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন লি ওয়েইচিয়া। কঠোর প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি বাড়িয়েছেন নিজ দক্ষতা। এর স্বীকৃতিও মিলেছে। ২০২৩ সালে চায়না রেলওয়ে বেইজিং ব্যুরো আয়োজিত প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রতিযোগিতায় তিনি পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নেন।
লি’র সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। তিনি চায়না রেলওয়ে বেইজিং ব্যুরোর প্রতিনিধিত্ব করে চায়না রেলওয়ে গ্রুপের জাতীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বাছাই যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নিজের কাজে আরও নিখুঁত করার চেষ্টা করছেন। প্রতিটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজকে সর্বোচ্চ মানদণ্ডে সম্পন্ন করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতাকে আরও শাণিত করছেন।
লি ওয়েইচিয়ার গল্প শুধু একজন নারী মেকানিকের পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়, এটি নিষ্ঠা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
সূত্র: সিএমজি