আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দম্পতির উদ্ধার হওয়া নিয়ে পুলিশের তদন্ত

ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে তালাবদ্ধ ওই কক্ষ থেকে নাজমা আক্তার (৩৩) ও তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেনের (৪২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নাজমা দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুড়া পাকপাড়ার বাসিন্দা এবং আলমগীর নিশা পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি মৃত ভ্রূণও উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট ওই দম্পতি বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং আলমগীর হকার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত তিন দিন ধরে কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। শুক্রবার কক্ষ থেকে পচা গন্ধ বের হলে ভবনের মালিক ও অন্যান্য ভাড়াটেরা বিষয়টি টের পান। শুরুতে বিড়াল মারা গেছে ভেবে ভুল করলেও, পরে গন্ধ তীব্র হওয়ায় তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর দম্পতির মরদেহ ও মৃত ভ্রূণ দেখতে পান তাঁরা।

নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম জানান, তাঁরা দুজন একই কারখানায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাজমার সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হয়েছিল। শাপলার দাবি, তাঁর বোন ও দুলাভাইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নাজমা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং ঘটনার সময় বা পরে তাঁর গর্ভপাত হয়ে প্রায় পাঁচ মাস বয়সী ভ্রূণটি বেরিয়ে আসে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও আলামত পর্যবেক্ষণ করে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অপরাধআশুলিয়াতদন্তপুলিশসাভার