ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত তরুণের নাম জাহিদুল ইসলাম (২৪), পেশায় একজন প্রসাধন (কসমেটিকস) ব্যবসায়ী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে সালিস বসিয়ে অভিযুক্ত তরুণকে কান ধরে মাত্র সাতবার উঠবস করিয়ে ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়। তবে এই বিচার প্রত্যাখ্যান করেছে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও আলামত সংগ্রহ করেছেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার জন্য কিশোরীর পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত তরুণ জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালের গাইনি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মেডিকেল প্রতিবেদনের পরই ধর্ষণের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ওই কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন জাহিদুল। তবে ঘটনাটি ওই কিশোরী তার বড় বোনকে জানালে বিষয়টি জানাজানি হয়। গত রোববার সকালে ওই কিশোরীর বড় ভাই অভিযুক্ত জাহিদুলকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তিনি উল্টো চড়াও হন এবং কিশোরীর বড় ভাইকে মারধর করেন। এ সময় জাহিদুল হুমকি দিয়ে বলেন, এ ঘটনায় মামলা করলে পরিণাম খারাপ হবে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি স্থানীয় গ্রাম সর্দারদের জানালে গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য শেখ ফাহিমা বেগমের উপস্থিতিতে গ্রামে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিসে অভিযুক্ত জাহিদুলকে মাত্র সাতবার কান ধরে উঠবস করানোর মাধ্যমে দায়সারা বিচার করা হয়। এই রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে কিশোরীর পরিবার বিচার প্রত্যাখ্যান করে। কিশোরীর বড় ভাই প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয় সর্দারদের অবগত করলে তাঁরা জাহিদুলকে সাতবার উঠবস করিয়েই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই এবং রায় প্রত্যাখান করেছি। আমি এ ঘটনায় মামলা করব। আমি খুব সহজ-সরল প্রকৃতির, এই সুযোগ নিয়ে জাহিদুল এমন জঘন্য কাজ করেছে। আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
সালিসের পর থেকে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম গা ঢাকা দিয়েছেন এবং তার মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য শেখ ফাহিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা দশে বইয়্যা বিচার করছে। আমি না, দশে মিলে শেষ করছে। আর ধর্ষণের ঘটনা তো আমি চোখে দেখিনি। কইতারতাম না, আল্লাহ জানে। আমি দেখছিও না, আমি সাক্ষীও না।’ এদিকে কিশোরীর পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং পুলিশ অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা এই লঘু শাস্তির তীব্র সমালোচনা করছেন।