গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বড়ফা গ্রামে মুসলিমা খানম (৩০) নামের এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী ও শ্বশুর মিলে তাঁকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ মুসলিমার স্বামী কুরবান মোল্লা ও শ্বশুর নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে কুরবান মোল্লা তাঁর স্ত্রী মুসলিমাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। এর আগে ২০২২ সালেও যৌতুক নিরোধ আইনে মুসলিমার মা কুরবানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, যা পরে স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও টাকার জন্য নির্যাতন শুরু হয় বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের পরিবারের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন কুরবান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মুসলিমাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্বামী ও শ্বশুর জোর করে তাঁর মুখে বিষ ঢেলে দেন। এরপর অচেতন অবস্থায় মুসলিমাকে ভ্যানে করে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। স্থানীয় লোকজন তাঁদের গতি রোধ করলে একপর্যায়ে তাঁরা বিষ খাওয়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুরুতর অসুস্থ মুসলিমাকে প্রথমে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বড়ফা নতুন বাজার এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জালালাবাদ ইউনিয়নের চন্দ্রদিঘলিয়া-মধুমতি সড়কে আয়োজিত এই মানববন্ধনে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। এতে মুসলিমার মা মর্জিনা বেগম, ভাই জুয়েল মোল্লা এবং প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম মোল্লা ও ইকরাম সরদারসহ স্থানীয়রা বক্তব্য রাখেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৪ সালে একই গ্রামের নুরুজ্জামান মোল্লার ছেলে কুরবান মোল্লার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের দৌড়াতে দেখে স্থানীয় রিকু মোল্লা, কিচমত মোল্লাসহ ১৫–২০ জন তাঁদের গতি রোধ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কুরবান ও নুরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবার কুরবানকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেন তাঁরা পালাচ্ছেন, স্থানীয় লোকজন জানতে চাইলে তাঁরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।