বলিউড পরিচালক অনুরাগ কশ্যপ ও শুভ্রা শেঠীর সম্পর্কের বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তাঁদের বয়সের ব্যবধান প্রায় ২০ বছর, যা নিয়ে অতীতে অনেক চর্চা হয়েছে। তবে এই বয়সের পার্থক্য তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সম্প্রতি জনিস সেকুইয়েরার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় শুভ্রা তাঁদের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
শুভ্রা জানান, অনুরাগের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর মা-বাবাকে আলাদা করে রাজি করানোর প্রয়োজন হয়নি। বরং তাঁর বাবা-মা নিজেরাই অনুরাগের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁকে আপন করে নিয়েছেন। শুভ্রার মা তো মজা করে অনুরাগকে ‘বকরা’ বলে ডাকেন। শুভ্রার ভাষ্যমতে, তাঁর বাবা-মা তাঁকে যেভাবে বড় করেছেন, তাতে তাঁদের সম্মতি পাওয়াটা সহজ ছিল।
অনুরাগের সঙ্গে শুভ্রার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল ‘বোম্বে ভেলভেট’ সিনেমা মুক্তির আগে ও পরে। সেই সময় অনুরাগ বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। শুভ্রা বলেন, ‘তখন সে খুব ভালো একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সে নিয়মিত বই পড়ত, সিনেমা দেখত এবং শারীরিকভাবেও বেশ ফিট ছিল। মূলত এসব বিষয় নিয়েই আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।’ অনুরাগ প্রায়ই শুভ্রাকে বলতেন, কয়েক বছর আগে দেখা হলে হয়তো শুভ্রা তাঁকে প্রেমিক হিসেবে পছন্দ করতেন না। তবে শুভ্রা এই মতের সঙ্গে একমত নন; তাঁর মতে, তিনি অনুরাগকে এমন এক সোনালি সময়ে পেয়েছিলেন যখন তিনি নিজের সেরা অবস্থায় ছিলেন।
পেশাগত জীবনে শুভ্রা ফ্যান্টম ফিল্মসে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতেন। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি অনুরাগ কশ্যপ, বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে, বিকাশ বহেল ও মধু মানতেনা মিলে গড়ে তুলেছিলেন। তবে শুভ্রা স্পষ্ট করেছেন যে, অনুরাগ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেও তিনি সরাসরি অনুরাগের অধীনে কাজ করতেন না, যাতে পেশাগত কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না হয়।
সম্পর্কের শুরুর দিকে অনুরাগ বয়সের ব্যবধান নিয়ে বেশ সচেতন ছিলেন। পরিচালক স্বীকার করেছেন যে, শুভ্রার প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল স্পষ্ট, যদিও শুভ্রা শুরুতে তা বুঝতে পারেননি। শুভ্রার সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুরাগকে বেশ কৌশলী হতে হয়েছিল। তিনি শুভ্রাকে বাইরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে যেতেন। মজার ব্যাপার হলো, তাঁদের প্রথম ‘ডেট’ মোটেও রোমান্টিক ছিল না। সেই সময় অনুরাগের বন্ধুরা এবং তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে আলিয়া কশ্যপও সেখানে উপস্থিত ছিল। অনুরাগ তখন মেয়ের পেছনে ছুটছিলেন।
উল্লেখ্য, শুভ্রার সঙ্গে সম্পর্কের আগে অনুরাগের ব্যক্তিজীবনে দুটি বিয়ে ছিল। ১৯৯৭ সালে সম্পাদক আরতি বাজাজকে বিয়ে করেন তিনি, তাঁদের সংসারে আলিয়া কশ্যপের জন্ম হয়। ২০০৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ২০১১ সালে অভিনেত্রী কালকি কোয়েচলিনের সঙ্গে অনুরাগের বিয়ে হয়। তবে সেই সংসারও স্থায়ী হয়নি এবং চার বছর পর ২০১৫ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপরই শুভ্রার সঙ্গে অনুরাগের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের রাজি করাতে আমাকে কিছুই করতে হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুভ্রার কথায়, ‘সে বলত, আমি যদি কয়েক বছর আগে তার সঙ্গে দেখা করতাম, তাহলে তাকে ডেট করতাম না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা খুব স্পষ্ট ছিল যে আমার ওর ওপর ক্রাশ ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনুরাগ কশ্যপের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যাত্রায় ‘দেলুপি’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি জানান, শুভ্রা অফিসে না থাকলে তিনি অফিসে যেতে চাইতেন না।