বিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করলেন সুনীতা, গোবিন্দের সঙ্গে দাম্পত্য কলহের অবসান

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ ও তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দীর্ঘদিনের দাম্পত্য টানাপোড়েনের গল্পে নতুন মোড় এসেছে। কয়েক বছর ধরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনা ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে সুনীতা তাঁর করা বিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অভিনেতার ম্যানেজার শশী সিনহা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদের আর কোনো সম্ভাবনা নেই।

১৯৮৭ সালের ১১ মার্চ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন গোবিন্দ ও সুনীতা। তাঁদের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল কৈশোরে, যখন সুনীতার বয়স ছিল প্রায় ১৫ বছর। পারিবারিক সূত্রে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এবং পরবর্তীতে তা প্রেমে রূপ নেয়। গোবিন্দ তখন বলিউডে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বিয়ের পর প্রায় চার বছর তাঁরা বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন, যা নিয়ে পরবর্তীতে গোবিন্দ আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন।

নব্বইয়ের দশকে গোবিন্দ যখন বলিউডের শীর্ষ নায়ক, তখন তাঁদের সংসারে সুখের পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতাও দেখা দেয়। তাঁদের দুই সন্তান টিনা আহুজা ও যশবর্ধন আহুজা ছাড়াও এক কন্যাসন্তান জন্মের অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়, যা তাঁদের দাম্পত্য জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। দীর্ঘ এই পথচলায় নানা সময় মতবিরোধ ও বিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা গেলেও, সুনীতা বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছেন।

তবে ২০২৫ সালে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে সুনীতা বিচ্ছেদের আবেদন করেন। সেখানে তিনি পরকীয়া, মানসিক নির্যাতন ও পরিত্যাগের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে তরুণ অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকরের সঙ্গে গোবিন্দর কথিত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সুনীতা প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং গোবিন্দকে ‘সুগার ড্যাডি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। যদিও গোবিন্দ এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এবং স্ত্রীর আবেগী মন্তব্যের প্রতি সহনশীলতা দেখিয়েছেন।

আইনি লড়াইয়ের এক পর্যায়ে সুনীতাকে নিয়মিত আদালতে যাতায়াত করতে দেখা যায়। কিন্তু ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই দীর্ঘ টানাপোড়েনে ইতি ঘটে। ওইদিন ছেলে যশবর্ধনের সঙ্গে সুনীতাকে বান্দ্রা ফ্যামিলি কোর্টে দেখা যায় এবং এরপরই বিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহারের খবরটি সামনে আসে। ম্যানেজার শশী সিনহা এটিকে ‘খুশির খবর’ হিসেবে অভিহিত করলেও, ঠিক কী কারণে সুনীতা এই সিদ্ধান্ত নিলেন বা তাঁদের মধ্যকার সব সমস্যার সমাধান হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

শশী সিনহা অবশ্য ব্যক্তিগত বিষয় জনসমক্ষে চলে আসায় কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পারিবারিক সমস্যাগুলো ঘরের ভেতরেই মিটিয়ে ফেলা উচিত ছিল। তবুও, দীর্ঘ চার দশকের সম্পর্কের এই নতুন মোড় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে পর্দার বাইরে তাঁর জগতের দাম্পত্যে কয়েক বছর ধরে ছিল কিছু জটিলতা। চাকরির আরও তথ্য: একসময় সেই টানাপোড়েন গিয়ে পৌঁছায় বিচ্ছেদের আবেদন পর্যন্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৈশোরের প্রেম, গোপনে বিয়ে, তারকা হয়ে ওঠার দিনগুলো, সংসার, সন্তান, দাম্পত্যের টানাপোড়েন, পরকীয়ার অভিযোগ—এই সবকিছু মিলিয়ে গোবিন্দ ও সুনীতার সম্পর্ক যেন কোনো বলিউডের সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সুনীতা পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গোবিন্দর সঙ্গে তাঁর প্রেমের শুরুটা হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং সংগ্রাম করতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে সুনীতার পরিবারও চাইত না মেয়ের বিয়ে চলচ্চিত্র জগতের কারও সঙ্গে হোক।

গোবিন্দদাম্পত্যবলিউডবিচ্ছেদসুনীতা আহুজা