প্রায়শ্চিত্ত : গল্প

টি এইচ মাহির

গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছি।খুব তাড়া আছে। তাড়াহুড়ো করে বাসা থেকে বের হলাম। একটা জরুরী মিটিং আছে।বাসা থেকে প্রথমে সি‌এনজি নিয়ে যেতে হবে কদমপুর। তারপর টেম্পুতে করে যাবো সিকদারহাট। সিকদারহাটে জরুরি প্রেস মিটিং। সকাল দশটায় ফোন দিয়ে জানালো হাসান ভাই।না জানি কিসের মিটিং। ভাবতে ভাবতে পকেটে হাত দিয়ে দেখি আসার সময় পকেটে শুধু একটা বিশ টাকার নোট নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন তো আর আবার বাসায় যাওয়া যাবে না। এদিকে একটা সিএনজি ও এসে গেছে।

যাইহোক সিএনজিতে উঠে পড়লাম।পথের দু’পাশের ধানক্ষেতের সবুজ দৃশ্য দেখতে দেখতে কদমপুর পৌঁছালাম।দশটাকা সিএনজি ভাড়া। পকেট থেকে বিশটাকার নোটটা ড্রাইভারকে দিলাম। দুটো পাঁচ টাকার নোট ফেরত দিলো ড্রাইভার।

পকেটে পুরে তাড়াতাড়ি টেম্পুর জন্য র‌ওনা দিলাম। সিকদারহাট যেতে হবে। এদিকে হাসান ভাই কলের পর কল দিচ্ছেন।কল ধরে আশ্বস্ত করলাম আমি টেম্পুতে।

সিকদারহাট নেমে ড্রাইভারকে ভাড়া দেয়ার জন্য পাঁচটাকা বের করলাম পকেট থেকে। কিন্তু এ কি! পাঁচ টাকাটা পুরো ছেঁড়া। মাঝখানে টেপ দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে। বুঝলাম এটা কদমপুর আসার পথে সি‌এনজি ড্রাইভারের কাজ।বাকি পাঁচটাকার নোটটা বের করলাম।এটা অবশ্য ঠিকঠাক আছে। সেটা ড্রাইভারকে দিয়ে বিদায় হলাম।

কিন্তু এই ছেঁড়া পাঁচটাকাটা কিভাবে ব্যবহার করবো।এই পাঁচ টাকাটা ভালো থাকলে যাওয়ার সময় অনন্ত কদমপুর যা‌ওয়া যেত। তারপর হেঁটে হেঁটে বাড়ি পৌঁছানো যেত। কিন্তু কী আর করার।

সি‌এনজিটা গ্যারেজে রেখে গামছায় মুখ মুছলো শফিক। তারপর পকেট থেকে আজকের কামানো টাকা গুলো বের করলো।মোট পাঁচশত পঞ্চাশ টাকা হয়েছে।টাকা গুনতে গুনতে এদিকে শফিক মা কল দিলো। মায়ের ঔষুধ লাগবে।

ঔষধ কিনতে সব টাকা নিয়ে দোকানে গেলো শফিক। দরকারি সব ঔষধ নেয়ার পর বিল আসলো ঠিক পাঁচশত পঞ্চাশ টাকা। দোকানদারকে টাকা দিয়ে ঔষধের প্যাকেটটা হাতে নিবে এমন সময় দোকানদার তার হাতে ছেঁড়া নোট ধরিয়ে দিলো।দশটাকার নোট।পুরোটা ছেঁড়া। মাঝখানে টেপ দিয়ে আটকানো।সি‌এনজি থেকে নামার পর কেউ হয়তো টাকার ভাজে গছিয়ে দিয়েছে।

দশটাকার জন্য মায়ের ঔষুধ কিনতে পারলো না শফিক। একটা ছেঁড়া নোট তার পুরো দিনটাকে বিষাদে পরিণত করলো।মনে পড়লো সেও এতোদিন টাকার ভাজে এমন ছেঁড়া নোট প্যাসেঞ্জারদের দিতো।

storiesগল্পটি এইচ মাহির