চীনের মহাকাশ-ভিত্তিক কম্পিউটিং-ব্যবস্থা গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায় পেরিয়ে এখন কক্ষপথে কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। কক্ষপথেই তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত পৃথিবীতে কীভাবে পাঠানো যায় তা নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।
বর্তমানে চীন কক্ষপথে ৬৪০টিরও বেশি বেসামরিক ও বাণিজ্যিক দূর-সংবেদন উপগ্রহ পরিচালনা করছে। এ সংখ্যা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এসব উপগ্রহ থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি হয়। তবে উপগ্রহ থেকে পৃথিবীতে তথ্য পাঠানোর সীমিত সক্ষমতার কারণে এর ৫ শতাংশেরও কম তথ্য পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে।
দুর্যোগের সময় ত্রাণ তৎপরতা সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে উপগ্রহের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কিন্তু প্রচলিত উপগ্রহ যোগাযোগব্যবস্থায় এত দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কঠিন।
এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত এমন প্রযুক্তি তৈরি করছেন, যা কক্ষপথেই তথ্য বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলাদা করতে পারবে। এরপর শুধু প্রয়োজনীয় তথ্যই পৃথিবীতে থাকা বিশ্লেষকদের কাছে পাঠানো হবে।
চায়না একাডেমি অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির ক্লাউড কম্পিউটিং ও বৃহৎ তথ্যভাণ্ডার গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক শিয়ে লিনা বলেন, “পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘থ্রি-বডি কম্পিউটিং কনস্টেলেশন’ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ২০৩২ সালের মধ্যে এক হাজার উপগ্রহের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।”
গবেষকেরা বর্তমানে এমন প্রযুক্তি ও প্রয়োগব্যবস্থা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন, যেসব ক্ষেত্রে পৃথিবীর প্রচলিত কম্পিউটিং সক্ষমতা দিয়ে কার্যকর সমাধান দেওয়া কঠিন। এর মধ্যে রয়েছে বুদ্ধিনির্ভর দূর-সংবেদন তথ্য বিশ্লেষণ, দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন এবং মহাসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারি।
সূত্র: সিএমজি