দেশভাগের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করলেন যোগী আদিত্যনাথ, তুললেন হিন্দু গ্রাম হস্তান্তরের অভিযোগ

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের জন্য কংগ্রেসের নীতি ও নেতৃত্বকে সরাসরি দায়ী করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। লখনউয়ে দেশভাগ স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, তৎকালীন সময়ে নরেন্দ্র মোদির মতো প্রধানমন্ত্রী বা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো বলিষ্ঠ নেতৃত্ব থাকলে ভারতকে কখনোই বিভক্ত হতে হতো না। তাঁর মতে, ক্ষমতার মোহ ও কংগ্রেস নেতাদের কাপুরুষতার কারণেই দেশভাগের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, যার মাশুল আজও ভারতকে দিতে হচ্ছে।

সীমানা নির্ধারণের প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেন, পাকিস্তান প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অঞ্চল পেয়েছিল। তাঁর দাবি, সিন্ধু ও পাঞ্জাবের মতো হিন্দু ও পাঞ্জাবি-প্রধান অঞ্চলগুলো জোরপূর্বক পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, বাঙালি-অধ্যুষিত বাংলার হিন্দু গ্রামগুলোকেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা কংগ্রেসের এক ‘লজ্জাজনক’ সিদ্ধান্ত ছিল।

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে কংগ্রেসের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ভোটব্যাংক হারানোর ভয়ে কংগ্রেস দলিত হিন্দুদের ওপর হওয়া হামলাকে কখনোই গুরুত্ব দেয়নি। এছাড়া ভারতের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিপুল সম্পদই বিদেশি আক্রমণকারীদের আকৃষ্ট করেছিল। তাঁর মতে, জাতি ও ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন ভারতকে দুর্বল করেছে, যার ফলে দেশটি দীর্ঘ সময় পরাধীন ছিল।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যোগী জানান, ১৬ ও ১৭ শতকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবদান ছিল প্রায় ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ। দেশভাগের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব হিসেবে তিনি সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ ও মাওবাদসহ বিভিন্ন চরমপন্থার উত্থানকে দায়ী করেন। তিনি আরও বলেন, দেশভাগের পেছনে থাকা ষড়যন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন নীরবতা পালন করা হয়েছে, যা ভারতের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়েও কংগ্রেসের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর ভাষ্যমতে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আইন করা হয়েছে। এতে কোনো মুসলিম বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের জমি কেড়ে নেওয়ার বিধান নেই।

যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেন, সিএএ নিয়ে কোনো ভিত্তি ছাড়াই দেশজুড়ে উত্তেজনা তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। দেশভাগকে তিনি ‘মানবতার অন্ধকারতম অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, কংগ্রেসের সেই ভুলের কারণেই আজ ভারতকে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

১৯৪৭ সালের সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে যোগী দাবি করেন, তৎকালীন পাকিস্তান এমন কিছু অঞ্চলও পেয়েছিল, যেগুলো তারা প্রত্যাশা করেনি।

তাঁর দাবি, ভোটব্যাংক হারানোর আশঙ্কায় দলটি এসব বিষয়ে নীরব থেকেছে।

একইসঙ্গে ১৯৪৭ সালের আগে দেশভাগের পেছনে থাকা কথিত ষড়যন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নীরবতা পালনেরও সমালোচনা করেন তিনি।

দেশভাগ এবং এর পরবর্তী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্য কংগ্রেসকে ‘প্রকৃত অর্থে দায়ী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার লোভে দলটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার পরিণতিতে দেশ বিভক্ত হয়।

ইতিহাসকংগ্রেসদেশভাগভারতযোগী আদিত্যনাথসিএএ