চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত স্পেনে তীব্র তাপপ্রবাহে ৫ হাজার ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক ‘কার্লোস থ্রি হেলথ ইনস্টিটিউট’-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে মৃত্যুর পরিসংখ্যান রাখা শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই সংখ্যাটি ২০২২ সালের একই সময়ের আগের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৫২ জনের মৃত্যুর রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৭৭ এবং গত বছর ছিল ৩ হাজার ৬৫১ জন।
স্পেনের মর্টালিটি মনিটরিং সিস্টেমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। যদিও এই পদ্ধতি সরাসরি তাপমাত্রার সঙ্গে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারে না, তবে এটি তাপদাহজনিত মৃত্যুর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অনুমান প্রদান করে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখার প্রচেষ্টার ফলে সৃষ্ট হৃদরোগ ও স্ট্রোকই এই মৃত্যুর মূল কারণ। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটের কারণে ইউরোপে চরম তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও দীর্ঘ ও তীব্র হচ্ছে।
স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা এইএমইটি (AEMET)-এর তথ্যমতে, ১৯৬১ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে জুলাই মাসটি ছিল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ মাস। শুধু স্পেন নয়, খরায় আক্রান্ত ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলেও তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সেপ্টেম্বর মাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতির তুলনায় অত্যন্ত অস্বাভাবিক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে এমন চরম আবহাওয়া ঘন ঘন পরিলক্ষিত হচ্ছে।