ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল

রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর ছয় বছর পর আবারও যুক্তরাজ্যে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ও মার্কিন সাময়িকী পিপলের তথ্য অনুযায়ী, এই দম্পতি তাঁদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি (৭) ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে (৫) নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরেই তাঁদের সন্তানদের যুক্তরাজ্যে স্কুলজীবন শুরু করার কথা রয়েছে। যদিও বাকিংহাম প্যালেস বা হ্যারি-মেগানের মুখপাত্র এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি, তবে দম্পতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

২০২০ সালের মার্চ মাসে রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার সময় তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, সেই শর্ত মেনেই তাঁরা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করবেন। এর অর্থ হলো, তাঁরা রাজপরিবারের কোনো সরকারি বাসভবনে থাকবেন না এবং দায়িত্ব পালন না করা রাজপরিবারের সদস্য হিসেবেই জীবনযাপন করবেন। ২০১৮ সালে উইন্ডসর ক্যাসলে বিয়ের পর রাজপরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল এই দম্পতিকে। তবে বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব তৈরি হতে থাকে।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার কাছে মন্টেসিটোতে ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার মূল্যের ১৬ শয়নকক্ষের একটি বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। এরপর নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র, বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার এবং হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’-এর মাধ্যমে রাজপরিবারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন তাঁরা। বিশেষ করে ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেগান অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজপরিবারের এক সদস্য তাঁদের সন্তান আর্চির গায়ের রং নিয়ে বর্ণবাদী প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও প্রিন্স উইলিয়াম এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন।

হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্য ত্যাগের পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও বড় ভূমিকা রেখেছিল। যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিয়ে দেওয়ায় হ্যারি জানিয়েছিলেন, পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষা ছাড়া সন্তানদের নিয়ে দেশে ফেরা তাঁর জন্য নিরাপদ নয়। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রায় ২০ মাস পর বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়, যা সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দেয়। ২০২৪ সালে রাজা চার্লসের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর গত ডিসেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, চিকিৎসায় তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

গত মাসে হ্যারি ও মেগান তাঁদের সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্য সফর করেন, যেখানে ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো রাজা চার্লস তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত রোববারই রাজা চার্লস এই দম্পতির যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছেন। তবে বাবার সঙ্গে সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হলেও বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে হ্যারির দূরত্ব এখনো কাটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন হ্যারি ও মেগান স্পটিফাই এবং নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কয়েক কোটি ডলারের বাণিজ্যিক চুক্তি করেছিলেন। তবে সব প্রকল্প সমান সাফল্য পায়নি; পডকাস্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং মেগানের নেটফ্লিক্স অনুষ্ঠানটির তৃতীয় মৌসুম আর নির্মিত হয়নি। হলিউডভিত্তিক সাময়িকী ডেডলাইনের নির্বাহী সম্পাদক ডমিনিক প্যাটেনের মতে, হ্যারি ও মেগান প্রত্যাশিত তারকাখ্যাতি পুরোপুরি অর্জন করতে না পারলেও, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের গল্প নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখনো অটুট রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকাল বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মেগানের মা কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় তাঁদের বিয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে বলেও আশা করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একপর্যায়ে তাঁদের সম্পর্ক প্রায় পুরোপুরি ভেঙে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হ্যারির ক্ষোভের আরেকটি কারণ ছিল, যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ এ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আগে থেকে জানতেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হ্যারি-মেগানের সংসার টানাপোড়েনের মুখে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব প্রকল্পের মধ্যে মেগানের উপস্থাপনায় জীবনযাপন–বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানও ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বড় বড় তারকার শহর হলিউডে নিজেদের নিয়ে মানুষের আগ্রহ ধরে রাখতে তাঁরা সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করেন প্যাটেন।

প্রিন্স হ্যারিব্রিটেনমেগান মার্কেলযুক্তরাজ্যরাজপরিবার