ভবিষ্যতের পৃথিবীতে মাছ যেন সহসা বংশবৃদ্ধি নিয়ে বিপদে না পড়ে সেই লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। অবৈধ মাছ ধরা রোধ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ‘সমুদ্রভিত্তিক অভিন্ন ভবিষ্যৎসম্পন্ন মানবসমাজ’ গঠনের লক্ষ্যে চীন সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চলতি বছর পোর্ট স্টেট মেজারস অ্যাগ্রিমেন্ট (পিএসএমএ) বাস্তবায়নের দশম বার্ষিকী। ২০১৬ সালে কার্যকর হওয়া এই চুক্তি এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৮৫টি পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি অবৈধ, অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে গৃহীত বিশ্বের প্রথম বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক কাঠামো।
চীন ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে পিএসএমএ-তে যোগ দেয়। বৈশ্বিক সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পালন এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় এটিকে চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি অবৈধ, অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার শাংহাই ওশেন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল সংস্থার মৎস্য ও জলজ চাষ বিভাগীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ম্যাথু ক্যামিলারি এই চুক্তির এক দশকের অগ্রগতি তুলে ধরেন। চুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে আরও বেশি দেশকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চীনের পিএসএমএ’র জাতীয় যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সিয়া লিয়াং জানান, গত এক বছরে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ব্যবস্থা গঠন, মৎস্য আইন সংশোধন এবং বিদেশি মাছ ধরার জাহাজের জন্য ২৩টি বন্দর নির্ধারণ।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, মাছ ধরার নিষিদ্ধ মৌসুম আরও কঠোর করা এবং অবৈধ মাছ ধরা দমনে জাতীয় উদ্যোগ— এসব ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।
চীনের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি ভবিষ্যতেও পিএসএমএ বাস্তবায়ন জোরদার করবে, বন্দরভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে এবং অবৈধ মাছ ধরা দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সিএমজি