দেশে ফ্যাসিবাদ যেন পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে কেউ যেন নিজেরাও ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠেন, তা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই সময় মাত্র ২০ দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩০০ মানুষ হাত বা পা হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন এবং অনেকে মাথা হারিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের মতো মুখ থাকলেও মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যা করেছে। এখনো অনেকের স্বজন নিখোঁজ রয়েছেন, অথচ তাদের চোখে আলো রয়েছে।
যারা এখনো ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যে যেখানেই থাকুন, চোখ খুলুন। বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিক হিসেবে এটি সবার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে ভুল হতে পারে, তবে তা সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে যেখানে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।
ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর মানবিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, অন্ধকে আলো দেখানো বা পিছিয়ে পড়া মানুষকে স্বাবলম্বী করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর চেয়ে মহৎ কাজ আর হতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের প্রতিভা বিকাশে কাজ করছে এবং তিন বছর আগে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদেরও এই কার্যক্রমের আওতায় এনেছে।
উল্লেখ্য, এবারের প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।