সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের সম্ভাবনা যাচাই করছে বাংলাদেশ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই তিন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোয় শামিল হওয়ার বিষয়টি ঢাকা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ এ ধরনের উদ্যোগে অংশগ্রহণের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করবে। যেকোনো আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলছে। কোনো জোটে যোগদানের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। এই সফরের মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এই চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এই কাঠামোর অংশ হলে তা দেশের কৌশলগত অবস্থানে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তুরস্কপররাষ্ট্রনীতিপাকিস্তানপ্রতিরক্ষা চুক্তিবাংলাদেশসৌদি আরবহুমায়ুন কবির