বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম হ্রদ হিসেবে পরিচিত আরাল সাগর ১৯৬০-এর দশক থেকে এর আয়তনের ৯০ শতাংশেরও বেশি হারিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হ্রদের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এখন যৌথভাবে কাজ করছেন চীন ও উজবেকিস্তানের বিজ্ঞানীরা। তাদের এই প্রচেষ্টায় আরাল সাগরের অববাহিকায় ফের সবুজ প্রকৃতি ফিরে আসতে শুরু করেছে।
সোভিয়েত আমলের সেচ প্রকল্পের কারণে হ্রদটির প্রধান দুটি নদীতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুকিয়ে যেতে শুরু করে আরাল সাগর। ফলে বিশাল এই হ্রদের ৯০ শতাংশই আজ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় চীনের সিনচিয়াং ইনস্টিটিউট অব ইকোলজি অ্যান্ড জিওগ্রাফির বিজ্ঞানীরা উজবেকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। সিনচিয়াংয়ের লবণাক্ত-ক্ষারযুক্ত মাটিতে চাষাবাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা ২০১৮ সাল থেকে আরাল সাগরের তীরে ১.৩ টনেরও বেশি লবণসহনশীল উদ্ভিদের বীজ সরবরাহ করেছেন।
পাশাপাশি, আরাল সাগর শুকিয়ে যাওয়ার মূল কারণ যে তুলা চাষ, সেই খাতে পানি অপচয় রোধে চীনা প্রযুক্তির ড্রিপ ইরিগেশন বা বিন্দু সেচ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর ফলে মাটির লবণাক্ততা হ্রাসের পাশাপাশি পানির ব্যবহার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে এবং তুলা উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের এই যৌথ প্রচেষ্টায় বর্তমানে অববাহিকা অঞ্চলে দুই মিলিয়নেরও বেশি হেক্টরের একটি সবুজ বেষ্টনী ধীরে ধীরে ফিরে আসছে।
সূত্র: সিএমজি