ঐতিহ্যের ডালা হাতে ইউরোপের ভ্রমণপিপাসুদের বরণ করছে চীন

ফয়সল আবদুল্লাহ

চীনের প্রতি বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সহজ ভিসা নীতি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভ্রমণপিপাসুদের টেনে আনছে নতুন নতুন গন্তব্যে। শুধু আধুনিক নগরজীবন নয়, গ্রামীণ সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাচীন স্থাপত্য, স্থানীয় খাবার ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার অভিজ্ঞতাও এখন তাদের ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।

চীনের সঙ্গে বিশ্বের মানুষের যোগাযোগ এখন শুধু বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে আটকে নেই, বরং সংস্কৃতি ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও গড়ে উঠছে নতুন সেতুবন্ধন।

বেইজিংয়ের হুয়াইরোউ জেলার বেইগৌ গ্রাম—মহাপ্রাচীরের মুতিয়ানইউ অংশের কাছে অবস্থিত এই গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন ৩০টির বেশি বিদেশি পরিবার। সম্প্রতি ইউরোপ থেকে আসা একদল ব্যবসায়ী ভ্রমণকারী ঘুরে দেখেছেন ঐতিহ্যবাহী এই এলাকা।

ড্যানিয়েল নামের এক ইউরোপীয় উদ্যোক্তা দলের সদস্যদের নিয়ে গেছেন নিষিদ্ধ নগরী ও থিয়ানথান মন্দিরে। তার মতে, পণ্যের চেয়ে সংস্কৃতির সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কই মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

তিনি জানালেন, ‘ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো আমাকে সবসময় টানে। চীনে আধুনিক ভবনের পাশাপাশি ঐতিহ্যের শক্তিশালী উপস্থিতি আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

দলটি ছিল পুরনো একটি ইটভাটায় তৈরি করা একটি বুটিক হোটেলে। সেখানে স্থানীয় খাবার, চীনা পানীয় এবং ডাম্পলিং ও নুডলস তৈরির অভিজ্ঞতাও পেয়েছেন তারা।

প্রথমবার চীন ভ্রমণে আসা এক হাঙ্গেরীয় পর্যটক জানান, দেশ সম্পর্কে তার আগের ধারণার সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার অনেক পার্থক্য রয়েছে।

তার মতে, ‘ভেবেছিলাম চীনের শহরগুলো হয়তো শুধু শিল্পাঞ্চল হবে। এখানে এসে দেখলাম শহরগুলো অনেক আধুনিক, আবহাওয়া ভালো এবং দ্রুতগতির রেল ব্যবস্থা অসাধারণ।’

চীনের পর্যটন আকর্ষণ বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ সহজতর প্রবেশ ব্যবস্থা। ভিসামুক্ত নীতি সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সেবার উন্নয়নের ফলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে কুইচৌ প্রদেশের উমেং তৃণভূমি, ইয়েয়ুহাই এবং শুইচেং প্রাচীন শহরের মতো স্থানগুলোও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। শাংহাইয়ের ইউইউয়ান বাগানে বিদেশি পর্যটকরা ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, স্থানীয় খাবার এবং চীনা সংস্কৃতির স্বাদ নিচ্ছেন। তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শাওলংবাও, পদ্মফুলের মূল দিয়ে তৈরি পেস্ট্রি ও চীনা চা।

চীনের প্রযুক্তিনির্ভর সেবাও পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সহজ করছে। করমুক্ত কেনাকাটা, মোবাইল পেমেন্ট এবং ডিজিটাল সেবার কারণে বিদেশি পর্যটকরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ ও কেনাকাটা করতে পারছেন।

উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়াতেও বাড়ছে আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় অঞ্চলটির পর্যটন আরও গতিশীল হয়েছে।

সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও সহজতর ভ্রমণ সুবিধার সমন্বয়ে চীন এখন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য শুধু একটি গন্তব্য নয়, বরং বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার এক নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

সূত্র: সিএমজি