বৈশ্বিক, যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তোলার ধারণা এবং চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রস্তাব করেছেন, যা মানবজাতির অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দিকনির্দেশনা দিয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) ১৩তম বেইজিং সিয়াংশান ফোরামের স্বাগত ভোজসভায় অংশ নিয়ে ভাষণ দেওয়ার সময় এ কথা বলেছেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান চেং।
হান চেং বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা ও পারস্পরিক কল্যাণের ধারা অপ্রতিরোধ্য। বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের প্রবণতাও অপরিবর্তনীয়। আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জোরালো।
অনুষ্ঠানে হান চেং চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রথমত, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিগুলো সমুন্নত রাখার পাশাপাশি সার্বভৌম সমতার নীতি মেনে চলতে হবে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে হবে এবং বলপ্রয়োগ বা সামরিক হুমকির বিরোধিতা করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ব যেন ‘জঙ্গলের শাসনে’ ফিরে না যায়, যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেন, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা সমুন্নত রাখতে হবে। সব দেশের জনগণের স্বাধীনভাবে নির্বাচিত উন্নয়নের পথ ও সামাজিক ব্যবস্থা এবং তাদের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করতে হবে। একই সঙ্গে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও টেকসই বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলেন হান চেং।
তৃতীয়ত, সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো, বিরোধ নিষ্পত্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং সংঘাতের বিস্তার ও তীব্রতা এড়িয়ে চলতে হবে বলে জানান ভাইস প্রেসিডেন্ট।
চতুর্থ প্রস্তাবে হান বলেন, জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে বিজ্ঞানের সুফল সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস ও মহাকাশের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রে শাসনব্যবস্থার নিয়ম ও নীতিমালা দ্রুত উন্নত করতে হবে এবং বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে এসব প্রযুক্তির ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
হান চেং আরও বলেন, দায়িত্বশীল বৃহৎ শক্তি হিসেবে চীন সবসময় নিজের উন্নয়নকে মানবজাতির সামগ্রিক উন্নয়নের কাঠামোর মধ্যে বিবেচনা করে। চীনা বৈশিষ্ট্যের আধুনিকায়নের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়নে অবদান রাখছে চীন।
তিনি বলেন, ২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিয়াংশান ফোরাম ‘সমতা, উন্মুক্ততা, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও পারস্পরিক শিক্ষা’র চেতনা ধারণ করে আসছে। নিরাপত্তা বিষয়ে ঐকমত্য গঠন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ফোরামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও বলেন তিনি।
হান চেং আশা প্রকাশ করেন, অংশগ্রহণকারীরা ফোরামের আলোচনায় গভীরভাবে মতবিনিময় করবেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার ও বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন অবদান রাখবেন।
সূত্র: সিএমজি