চীন আন্তর্জাতিক আমদানি মেলার মাধ্যমে উন্মুক্ততার সুফল ভাগ করে নিচ্ছে বিশ্ব

বিশ্বের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের আমদানি-বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হিসেবে চীন আন্তর্জাতিক আমদানি মেলা (সিআইআইই) এখন চীনের নতুন উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা, উচ্চমানের উন্মুক্ততা এগিয়ে নেওয়ার প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া একটি আন্তর্জাতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।

এবারের মেলার পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৪৮টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ৪ হাজার ১৪২টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং নিজ নিজ শিল্প খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩০০ ছাড়িয়েছে। টানা আটটি আসরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদর্শনী এলাকা সবচেয়ে বড় রয়েছে। এ ছাড়া, বিশ্বে প্রথমবারের মতো উন্মোচিত, এশিয়ায় প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত এবং চীনে প্রথমবারের মতো উপস্থাপিত ৪৮০টিরও বেশি উল্লেখযোগ্য পণ্য ও প্রদর্শনী সামগ্রী স্থান পেয়েছে, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্ব অর্থনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে সিআইআইই’র গুরুত্ব ও তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীন পারস্পরিক সুবিধা ও অভিন্ন কল্যাণভিত্তিক উন্মুক্ত উন্নয়ন কৌশল দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করছে।

এবারের আমদানি মেলা চলাকালে প্রকাশিত ‘বিশ্ব উন্মুক্তকরণ প্রতিবেদন ২০২৬’-এ দেখা গেছে, ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের উন্মুক্ততা সূচক ২৮.১৮ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির হার বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম আটটি আসরে ১৮০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের মোট ২৭ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এসব মেলায় সম্ভাব্য লেনদেনের মোট মূল্য ৫৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে প্রদর্শনীতে আনা পণ্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে এবং প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগকারীতে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

টানা নয় বছর ধরে অনুষ্ঠিত এই আমদানি মেলা প্রমাণ করেছে, চীন একই সঙ্গে ‘বিশ্বের কারখানা’ এবং ‘বিশ্বের বাজার’; দেশটি যেমন একটি ‘সুপার বিক্রেতা’, তেমনি একটি ‘সুপার ক্রেতাও’।

বর্তমানে চীন টানা ১৭ বছর ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি বাজারের অবস্থান ধরে রেখেছে। ১৬০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এ বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে চীনের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.৩ শতাংশ বেড়েছে।

চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা (২০২৬–২০৩০)’-এর রূপরেখায় আমদানি ও রপ্তানির ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ‘চীন আন্তর্জাতিক আমদানি মেলা নিয়মিত ও সফলভাবে আয়োজন অব্যাহত রাখার’ কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে চীনের বিশাল বাজারের সম্ভাবনা আরও উন্মুক্ত হবে এবং বিশ্ব আরও ভালোভাবে ‘চীনা সুযোগ ২.০’-এর সুফল ভাগ করে নিতে পারবে।

সূত্র: সিএমজি