চীনের দুর্নীতিবিরোধী প্রধান লি সি শৃঙ্খলা-পরিদর্শন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) পূর্ণাঙ্গ ও কঠোর আত্ম-শাসন এবং দুর্নীতি-বিরোধী লড়াইকে এগিয়ে নিতে জোরালো প্রচেষ্টা চালান।
সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সিপিসি কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা পরিদর্শন কমিশনের সম্পাদক লি সি, দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কুইচৌ প্রদেশে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক পরিদর্শন ও পর্যালোচনা সফরের সময় এই মন্তব্য করেন।
সফরকালে লি ১৯৩৫ সালের ‘লং মার্চ’-এর সময় অনুষ্ঠিত ‘চুনয়ি বৈঠক’-এর স্থানটি পরিদর্শন করেন। এই বৈঠকটিকে পার্টির ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এটি পার্টির প্রথম প্রজন্মের কেন্দ্রীয় যৌথ নেতৃত্বের গঠনের সূচনা করেছিল।
লি জোর দিয়ে বলেন যে, লং মার্চ এবং চুনয়ি বৈঠকের চেতনা সিপিসির মূল্যবান আধ্যাত্মিক সম্পদের অংশ; তিনি উল্লেখ করেন যে এ বছর লং মার্চে বিজয়ের ৯০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। তিনি শৃঙ্খলা পরিদর্শন ও তদারকি কর্মকর্তাদের প্রতি পার্টির গৌরবময় ঐতিহ্য ও সম্মানজনক আচরণধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
কুইচৌতে লি স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দাদের একটি দলের সাথেও সাক্ষাৎ করেন এবং পার্টির আচরণ উন্নত করা, শৃঙ্খলা জোরদার করা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ শোনেন।
তিনি জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ ও দুর্নীতির মোকাবিলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং জীবনযাত্রার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জনগণের অভিযোগের সুরাহা করার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
সফরকালে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লি আচরণ উন্নয়নের বিষয়ে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির আট-দফা সিদ্ধান্ত ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক কর্মদক্ষতা বিষয়ক ভুল ধারণাগুলো চিহ্নিত ও সংশোধনের জন্য নিয়মিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শৃঙ্খলা পরিদর্শন ও তদারকি কর্তৃপক্ষগুলোর এমন প্রচেষ্টা জোরদার করা উচিত যাতে কর্মকর্তাদের দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার মতো সাহস, সুযোগ বা আকাঙ্ক্ষা না থাকে। তিনি আরও যোগ করেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বদা কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।
চীন দুর্নীতির বিষয়ে ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতি বজায় রেখেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে সারা দেশে শৃঙ্খলা তদারকি ও নজরদারি কর্তৃপক্ষ ৫ লাখ ৩৮ হাজার মামলা দায়ের করেছে এবং ৪ লাখ ১২ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে; এদের মধ্যে প্রাদেশিক বা মন্ত্রী পর্যায়ের এবং তার ওপরের স্তরের ৭৪ জন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
সূত্র: সিএমজি