সেপ্টেম্বর ২৩, সিএমজি বাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ এবং ইয়ননানসহ চীনের বাজারে বাংলাদেশের হোমটেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, চামড়া, সামুদ্রিক খাদ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ইয়ুননান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপে’ তিনি সোমবার এ আহ্বান জানান। সংলাপে ৩০ সদস্যের চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
খোরশেদ আলম বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদা পূরণেও চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংলাপে লজিস্টিকস ও সরবরাহ ব্যবস্থা, আমদানি-রপ্তানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এলিভেটর, ভবন নির্মাণ প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, অ্যালুমিনিয়াম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও খুচরা বিক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সংলাপটি সঞ্চালনা করেন বিসিসিসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের।
লানছাং-মেখং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ চিয়েই ইয়ুননানের ‘থ্রি ফ্রিজ অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ নীতির আওতায় বিদেশি ব্যবসায়ীদের বিনামূল্যে বন্ডেড গুদাম, প্রদর্শনী স্থান ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি লজিস্টিকস, কাস্টমস ছাড়পত্র ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।
তিনি জানান, এসব সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা চীনের বাজারে তাদের পণ্য প্রদর্শন, প্রচার ও বিতরণের সুযোগ পেতে পারেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে, বিশেষ করে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে, বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া ইলেকট্রনিকস, সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা, সেমিকন্ডাক্টর, লজিস্টিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও যন্ত্রপাতি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংকিং ও বাণিজ্য অর্থায়ন, এলপিজি ও জ্বালানি, শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেন।
সংলাপের শেষে বিসিসিসিআই এবং চুয়াংছি বিডি লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতাস্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানো, ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজ করা এবং যৌথ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সুযোগ চিহ্নিত করাই এ সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিসিসিসিআইয়ের মহাসচিব, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পরিচালক এবং অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।