সাকিব সিকান্দার
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারে চীন নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে এবং বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।
প্রাকৃতিকসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন চীনা সমুদ্রবিষয়ক ইনস্টিটিউট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে বৈশ্বিক সমুদ্র শাসনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদনে ভূমিকা রেখেছে চীন। চুক্তিটি হলো— সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ সনদের অধীনে জাতীয় এখতিয়ারবহির্ভূত সমুদ্র অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারবিষয়ক চুক্তি। চলতি বছরের শুরুতে এটি কার্যকর হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো প্রণয়ন ও পরিমার্জনের ক্ষেত্রে চীন আর্থিক ও অ-আর্থিক— উভয় ধরনের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সুবিধা বণ্টনব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর লক্ষ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষা করা। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দেশটি।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তবায়ন সক্ষমতা জোরদার করতে চীন প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দেশভিত্তিক উদ্যোগ ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং বহুমুখী সহযোগিতার ধরন অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
চুক্তিটির প্রথম দিকের স্বাক্ষরকারী ও পক্ষভুক্ত দেশগুলোর একটি হিসেবে এর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে চীন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চিয়াওলোয ও ফেতৌচ্যয়ের মতো গভীর সমুদ্রের ডুবোযান এবং শেনহাই ইয়িহাওয়ের মতো গবেষণা জাহাজ ব্যবহার করে পরিচালিত বৈজ্ঞানিক অভিযানের মাধ্যমে চীন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য নিজেদের গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলও বিনিময় করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ফুচিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় শহর সিয়ামেনে চুক্তিটির সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। এশিয়ায় জাতিসংঘের সমুদ্রবিষয়ক সংস্থাগুলোর সদর দপ্তর না থাকার ঘাটতি দূর করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এর মাধ্যমে আরও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছে চীন।
সূত্র: সিএমজি