কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম ভেঙে লুট, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার সংকটকে কেন্দ্র করে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে ‘শাহ আমানত ট্রেডার্স’ নামের একটি ডিলার প্রতিষ্ঠানের গুদাম ভেঙে কৃষকরা সার নিয়ে গেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি আমন মৌসুমে বারবার চেষ্টা করেও তারা পর্যাপ্ত সার পাচ্ছিলেন না। ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করছেন বলেও কৃষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার জানান, ওই ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা, যার মধ্যে ডিলার ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করেছিলেন। ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সার বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে কিছু উশৃঙ্খল জনতা গুদামের তালা ভেঙে ১৯০ বস্তা সার জোরপূর্বক নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তৎপরতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় লুট হওয়া সারের কিছু অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি সার উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, সার না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে অনেক কৃষকই তাদের নেওয়া সার ফেরত দিয়ে গেছেন। এদিকে, ডিলার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানিয়েছেন, তিনি এবং সার্কেল এএসপি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। লুট হওয়া বাকি সার উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ইউরিয়া সারকুড়িগ্রামকৃষকভূরুঙ্গামারীলুটসার সংকট