মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া মধ্যমকান্দি গ্রামে রিনা আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোরে নিজ বসতঘর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী সুমন সরকার পলাতক রয়েছেন। নিহত রিনা আক্তার টেংগারচর ইউনিয়নের বৈদ্যারগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মেয়ে ছিলেন।
পেশায় পেইন্টার সুমন সরকারের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিক সম্মতিতে রিনার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বজনদের ভাষ্যমতে, গত তিন-চার বছর ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলছিল। প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটত। নিহতের মা সাকিনা বেগমের অভিযোগ, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকের টাকার জন্য রিনাকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করতেন। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়ার জের ধরেই রিনাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সুমনের মা রুফিয়া বেগম জানান, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তারা মিটমাট করে দিয়েছিলেন। এরপর রাতে কী ঘটেছে তা তিনি জানেন না। সকালে নাতনি সিনহা কান্নাকাটি শুরু করলে তিনি ঘরে গিয়ে রিনার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তবে রিনা কীভাবে মারা গেছেন সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পলাতক স্বামীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।