গতকাল (মঙ্গলবার) হ্যানয়ের চায়না কালচারাল সেন্টারের সমর্থন ও সহযোগিতায়, চলচ্চিত্রটির ভিয়েতনামি পরিবেশকের আয়োজনে চীনা চলচ্চিত্র ‘ডিয়ার ইউ’-এর প্রিমিয়ার ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়। ভিয়েতনামি চলচ্চিত্র শিল্পের ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক গবেষক, প্রবাসী চীনা, ভিয়েতনামে চীনা অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ প্রায় ১ হাজার জন এই প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন।
চলচ্চিত্রটি ৫ই আগস্ট ভিয়েতনাম জুড়ে প্রেক্ষাগৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পায়। বিভিন্ন দর্শকের দেখার চাহিদা মেটাতে, চলচ্চিত্রটি’র তিনটি সংস্করণ রয়েছে, ম্যান্ডারিন চীনা, ছাওশান উপভাষা এবং ভিয়েতনামি, প্রতিটিতে ভিয়েতনামি-ইংরেজি সাবটাইটেল থাকবে।
সম্প্রতি, ‘ডিয়ার ইউ’ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপাইনসহ বেশ কয়েকটি বিদেশি বাজারে মুক্তি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরে ছাওশান উপভাষায় প্রিমিয়ারের টিকিট দেড় ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়, যা প্রবাসী চীনাদের মধ্যে ছবিটি দেখার এক উন্মাদনা সৃষ্টি করে এবং সিঙ্গাপুরে বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী এশীয় চলচ্চিত্রে পরিণত হয়। বর্তমানে, চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক বক্স অফিসের আয় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যা এই হৃদয়স্পর্শী স্থানীয় গল্পটিকে সফলভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।
এই চলচ্চিত্রটির মূল বিষয়বস্তু হলো “ছিওপি”, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জীবিকা নির্বাহ করতে যাওয়া প্রবাসী চীনাদের প্রবীণ প্রজন্মের দেশে থাকা আত্মীয়দের সাথে একে অপরের যত্ন ও সমর্থনের এক মর্মস্পর্শী গল্প বলে। ছাওশান উপভাষায়, “পি” মানে “চিঠি”, এবং “ছিওপি” হলো প্রবাসী চীনাদের চিঠি ও রেমিটেন্স ভাউচারের একটি সংমিশ্রণ, যা গত শতাব্দীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসবাসকারী প্রবাসী চীনাদের নিজ নিজ জন্মস্থানের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল। ২০১৩ সালে, “ছিওপি আর্কাইভস- ওভারসিজ চাইনিজ রেমিটেন্স” ইউনেস্কোর মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়।
সূত্র: সিএমজি