যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, দেশটিতে বিক্ষোভকারীদের দমনে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে এবং তার দাবি অনুযায়ী সেখানে ১ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে নিহতের এই সংখ্যার বিষয়টি স্বাধীন কোনো উৎস থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটির মুদ্রাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। তার ভাষ্যমতে, ইরানের কার্যত কোনো কার্যকর নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই। তিনি দেশটির নেতৃত্বকে ‘সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। গত রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটনের ভাষ্যমতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওই অস্ত্র ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে মাইন স্থাপনের পরিকল্পনা করছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের আঞ্চলিক জলসীমার ওপর ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা নিশ্চিত করেছে। তবে আবুধাবির আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার যে দাবি ইরান করেছে, তা আমিরাত কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। এদিকে ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এই নতুন সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ট্রাম্পের এই বক্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে।