ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার চলমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে। জাহাজ চলাচল ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এক সপ্তাহে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৭৭টি জাহাজ হরমুজ পাড়ি দিয়েছে। এর মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা ৪৫টি থেকে কমে ৩৩টিতে নেমে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পথেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা ২৮টি জাহাজের মধ্যে ২১টিই ইরানের নির্ধারিত বিকল্প পথ ব্যবহার করেছে। প্রচলিত নৌপথ এড়িয়ে চলার এই প্রবণতা চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর বাণিজ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে। কেপলারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তন স্থায়ী হবে কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজায়ি নতুন কৌশলের কথা জানিয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ ঘোষণা করবে ইরান। রেজায়ির ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র যেখান থেকে নৌ অবরোধ শুরু করেছে, সেখান থেকেই এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল কার্যকর হবে এবং এটি উপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত থাকবে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি প্রণালিটির নাম নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক সংকট এখন নতুন মোড় নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে ৩৩টিতে নেমেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেপলার বলছে, গত সপ্তাহের শেষ দিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে, তা সামনে অব্যাহত থাকে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।