সাকিব সিকান্দার
এবার সরাসরি লাইভস্ট্রিমে হাজির হচ্ছেন চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেডি ডটকম, পাইতু ও আলিবাবার মানবসম্পদ (এইচআর) ব্যবস্থাপকরা। তারা একচেটিয়া চাকরির সুযোগ তুলে ধরেন, বেতন ও ক্যারিয়ার অগ্রগতি নিয়ে দর্শকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ভার্চুয়াল অফিস ভ্রমণেরও ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি তরুণ চাকরিপ্রার্থীরা কর্মসংস্থান পরামর্শকদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ক্যারিয়ার–পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পান।
জুন মাসে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন ছিল চীনের মানবসম্পদ ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের এক মাসব্যাপী অনলাইন নিয়োগ কর্মসূচির অংশ। এতে পাঁচ হাজারের বেশি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং দুই লাখেরও বেশি চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়।
বেইজিং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য স্নাতক লিউ ওয়েইছাই বলেন, ‘লাইভস্ট্রিম-ভিত্তিক নিয়োগ চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তথ্যের ব্যবধান কমিয়ে আনে। এতে আমাদের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হয়।‘
শুধু জেডি ডটকমই প্রযুক্তি ও বিক্রয় খাতে ২৫ হাজার চাকরির সুযোগ ঘোষণা করেছে। টেনসেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যালগরিদম ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৮ হাজারের বেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, বাইটড্যান্স বৃহৎ ভাষা মডেল, এআই অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৭ হাজার জনকে নিয়োগ দিচ্ছে।
এই ভার্চুয়াল চাকরি মেলা চীনের কর্মসংস্থান বাজারে চলমান গভীর পরিবর্তনের প্রতিফলন।
বর্তমানে চীনে কর্মসংস্থানের চাপ এখনও অনেক বেশি। চলতি বছরে ১ কোটি ২৭ লাখ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন। একই সময়ে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত অগ্রগতিতে শ্রমবাজারের চাহিদায় বড় পরিবর্তন এসেছে। কিছু ঐতিহ্যবাহী পেশায় চাহিদা কমলেও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন নতুন অনেক পেশার সৃষ্টি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন লক্ষ্য-ভিত্তিক কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও বিষয়সমূহে পরিবর্তন এনে তরুণদের দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলছে।
স্থানীয় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোগও জোরদার হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের চিয়াংসু প্রদেশে কর্মসংস্থানে সমস্যায় থাকা ২৩ হাজারের বেশি স্নাতকের জন্য ব্যক্তিগত সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বেইজিংয়ে জুন মাসে ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে স্নাতক নিয়োগ, ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি এবং যৌথভাবে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালে এক হাজার ‘মাইক্রো-মেজর’ এবং এক হাজার পেশাভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেয়। এ পর্যন্ত এর মাধ্যমে ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চীন অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোরদারের পাশাপাশি শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে থাকবে।
সিএমজি বাংলা