চার রাজনৈতিক দলিলের চেতনা মেনে চললেই চীন-জাপান সম্পর্ক ঠিক থাকবে: চীনা মুখপাত্র

 

সেপ্টেম্বর ২৯: চীন-জাপান সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তি রক্ষা করতে হলে দুই দেশের চারটি রাজনৈতিক দলিলে নির্ধারিত নীতির চেতনা সত্যিকারভাবে মেনে চলতে হবে। মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মুখপাত্র কুও চিয়াখুন।

‘চীন-জাপান যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশের ৫৪তম বার্ষিকী এবং চীন-জাপান সম্পর্ক গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ‘চীন-জাপান যৌথ বিবৃতি’সহ দুই দেশের চারটি রাজনৈতিক দলিলের ঐতিহাসিক ও বর্তমান তাৎপর্যকে চীন কীভাবে দেখে? সিসিটিভির সাংবাদিকের করা এ প্রশ্নের জবাবে কুও চিয়াখুন বলেন, ৫৪ বছর আগে এই দিনে চীন ও জাপানের তৎকালীন নেতারা অসাধারণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাহসের পরিচয় দিয়ে ‘চীন-জাপান যৌথ বিবৃতি’তে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।

তিনি বলেন, ওই যৌথ বিবৃতিতে জাপান স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, তারা অতীতের যুদ্ধের দায় গভীরভাবে উপলব্ধি করে। একই সঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারকে চীনের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এ বিষয়ে চীন সরকারের অবস্থানকে সম্পূর্ণভাবে বুঝতে ও সম্মান করতে সম্মত হয়।

কুও চিয়াখুন বলেন, ‘চীন-জাপান যৌথ বিবৃতি’সহ চারটি রাজনৈতিক দলিল চীন-জাপান সম্পর্কের রাজনৈতিক ও আইনি ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং ইতিহাস ও তাইওয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মৌলিক রাজনৈতিক ঐকমত্য নির্ধারণকারী দলিল এটি। এসব নীতি বিকৃত করা, তা থেকে পিছিয়ে যাওয়া বা তা লঙ্ঘন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আজ চীন-জাপান সম্পর্ক আবারও গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

কুও চিয়াখুনের অভিযোগ, জাপানের বর্তমান নেতা অতীতের আগ্রাসনের ইতিহাস নিয়ে যথাযথ আত্মসমালোচনা করছেন না। বরং তিনি দাবি করেছেন, তাইওয়ানে কোনো সংকট দেখা দিলে তা জাপানের জন্য ‘অস্তিত্বের সংকট পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে। চীনের দৃষ্টিতে, এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ্যে চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং চীন-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মূল উদ্দেশ্য ও জাপানের দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, জাপান তথাকথিত ‘বাহ্যিক হুমকি’র কথা তুলে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং এটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ‘পুনরায় সামরিকীকরণ’ ত্বরান্বিত করছে। চীনের মতে, এসব পদক্ষেপ যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

কুও চিয়াখুন বলেন, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে, চীন-জাপান সম্পর্কের ক্ষেত্রে চারটি রাজনৈতিক দলিলে নির্ধারিত নীতি ও চেতনা সত্যিকারভাবে মেনে চললেই দুই দেশের সম্পর্ক ঠিক পথে থাকবে।

তিনি বলেন, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গতকাল জাপানের ব্যবসা ও বাণিজ্য প্রচার সংস্থার প্রধান ইওয়ায়া তাকেশির সঙ্গে সাক্ষাতে উল্লেখ করেছেন, জাপানের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো তাইওয়ান বিষয়ে দেশটির নেতার ভুল বক্তব্য ও পদক্ষেপ দ্রুত সংশোধন করা। গুরুত্বপূর্ণ হলো ইতিহাসের বিষয়ে সঠিক মনোভাব গ্রহণ করা। আর মৌলিক বিষয় হলো চীনের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিসংগত ধারণা গড়ে তোলা।

কুও চিয়াখুন বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিনে চীন আবারও জাপানের ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—তারা যেন সত্যিকার অর্থে আত্মসমালোচনা ও সংশোধন করে এবং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন-জাপানের চারটি রাজনৈতিক দলিলের মূল উদ্দেশ্য ও নীতিগত অবস্থানে ফিরে আসে।

সূত্র: সিএমজি