চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) জন্মই হয়েছে জনগণের জন্য। জনগণের কারণেই সমৃদ্ধ হয়েছে এ পার্টি। এ বছর ১ জুলাই সিপিসি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং পার্টির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলেন—‘জনগণের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত থাকতে হবে, যা সবসময় শক্তির ভিত্তি জুগিয়েছে।’ ‘পাঁচটি আবশ্যকতা’র কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যার মধ্যে অন্যতম হলো—‘ইতিহাসের মহান কর্ম সম্পাদনের জন্য নির্ভর করতে হবে জনগণের ওপর।’
সম্মেলনের পর প্রথম স্থানীয় পরিদর্শনে শাংহাইয়ের হুয়াংপু জেলার পানসোংইউয়ান সড়কের একটি নতুন আবাসিক এলাকায় যান সাধারণ সম্পাদক সি। কয়েক বছর আগেও এলাকাটি ‘পুরনো, ছোট ও জরাজীর্ণ’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ছিল না সুষ্ঠু পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বসবাসের পরিবেশও ছিল অনুন্নত। পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের মাধ্যমে এখন পুরো এলাকার চেহারা বদলে গেছে।
এই পরিবর্তন দেখে সাধারণ সম্পাদক সি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের চাহিদা বুঝতে হবে, তাদের সমস্যার সমাধানে সক্রিয় হতে হবে এবং জনগণের আগ্রহ ও প্রয়োজনের বিষয়গুলো একে একে সমাধান করে জনকল্যাণের মান ধারাবাহিকভাবে উন্নত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সুখী জীবনই রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চলতি বছরে শহর থেকে গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সভা থেকে স্থানীয় পরিদর্শন—সব ক্ষেত্রেই সাধারণ সম্পাদক সি সাধারণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
বসন্ত উৎসবের আগে তিনি বেইজিংয়ের সিছেং জেলার পেইছাওছাং হুথোংয়ের একটি প্রবীণ সেবা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রবীণদের সম্মান ও যত্ন করা চীনা জাতির ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ এবং পুরো সমাজের দায়িত্ব।
বিভিন্ন পর্যায়ের পার্টি কমিটি ও সরকারকে সম্পদ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রবীণ সেবার পরিধি ও মান আরও উন্নত করতে হবে, যাতে বয়স্করা আরও নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সুখী জীবনযাপন করতে পারেন।
কর্মসংস্থানকে জনগণের জীবনমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ডেলিভারি কর্মী, রাইড-হেইলিং চালক এবং ই-কমার্স খাতের কর্মীদের তিনি সুন্দর জীবনের অন্বেষক ও রক্ষক হিসেবে অভিহিত করেন। শিনচিয়েকৌ সড়কের একটি ‘প্যারেন্টস ক্যান্টিনে’ বিশ্রামরত কয়েকজন ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের কাজ ও জীবনযাত্রার খোঁজ নেন এবং তাদের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানের প্রশংসা করেন।
‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনায়’ জনগণের জীবনমান নিশ্চিত ও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় নির্ধারিত ২০টি প্রধান সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সূচক জীবনমানের সঙ্গে সম্পর্কিত। কর্মসংস্থান, আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রবীণদের সেবা এবং শিশু পরিচর্যার মতো জনগণের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক সি মনে করেন, সুন্দর পরিবেশও জনগণের জন্য সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত জনসেবা এবং সর্বজনীন জনকল্যাণ। মার্চের শেষে রাজধানীতে আয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণ ও বনায়নে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে দেশের পাহাড়-নদী আরও সবুজ ও সুন্দর হয়ে ওঠে এবং চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের পরিবেশগত ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।
জনগণের স্বাস্থ্যকে সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলেও উল্লেখ করেন সি। চলতি বছরের জাতীয় গণকংগ্রেস ও চীনা গণ রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের (এনপিসি ও সিপিপিসিসি) সময় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ‘সুস্থ চীন’ গড়ে তুলতে হলে দেশের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে চীনা বৈশিষ্ট্যের স্বাস্থ্য উন্নয়নের পথ অনুসরণ করতে হবে এবং নতুন যুগের স্বাস্থ্যনীতি দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বর্তমানে চীন বিশ্বের বৃহত্তম চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। দেশের গড় আয়ুষ্কাল মধ্যম-উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ‘সুস্থ চীন’ নির্মাণ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনের কর্মসংস্থানের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল। নাগরিকদের আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি আরও এগিয়েছে, মৌলিক জনসেবার আওতা বিস্তৃত হয়েছে এবং জনকল্যাণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের জন্য আরও উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার ও পার্টি।
(তুহিনা/ফয়সল/জিনিয়া)