চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত থুংফেং বাণিজ্যিক মহাকাশ উদ্ভাবন পরীক্ষামূলক অঞ্চল থেকে বুধবার সফলভাবে ‘চুচে-২ই ওয়াই৪’ বাহক রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। রকেটটি ১০টি কৃত্রিম উপগ্রহকে তাদের পূর্বনির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে। এ উৎক্ষেপণ পরীক্ষামূলক অভিযানকে সম্পূর্ণ সফল ঘোষণা করা হয়েছে।
বেইজিং সময় বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রকেটটি যাত্রা শুরু করে। উৎক্ষেপণ করা ১০টি কৃত্রিম উপগ্রহ বৈশ্বিক বাণিজ্যিক মহাকাশখাতের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পরীক্ষা ও যাচাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশ-ভিত্তিক কম্পিউটিং সক্ষমতা এবং উচ্চ কার্যক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম উপগ্রহ-নির্ভর ইন্টারনেট প্রযুক্তি।
‘চুচে-২’-এর উন্নত সংস্করণ ‘চুচে-২ই’ একটি মাঝারি সক্ষমতার তরল জ্বালানিচালিত রকেট। এতে জ্বালানি হিসেবে তরল অক্সিজেন ও মিথেন ব্যবহার করা হয়। রকেটটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে সর্বোচ্চ ছয় টন ওজনের মালামাল বহন করতে সক্ষম।
এ অভিযানে অংশ নেওয়া উপগ্রহগুলোর আকার, ওজন ও কক্ষপথের চাহিদা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়নকারী দল রকেটের অগ্রভাগের আবরণের ভেতরে উপগ্রহগুলোর বিন্যাস এবং সেগুলোকে আলাদা করার ক্রম বিশেষভাবে সমন্বয় করেছে।
রকেটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডস্পেসের বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মা হাইচিং বলেন, ‘একসঙ্গে একাধিক গ্রাহকের উপগ্রহ উৎক্ষেপণের অভিযানে বিভিন্ন প্রযুক্তির উপগ্রহ থাকে। সেগুলোর আকার, যান্ত্রিক পরিবেশ এবং রকেটের আবরণের ভেতরে বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তাও ভিন্ন হয়। এ ধরনের সুশৃঙ্খল কার্যক্রম প্রমাণ করে, একটি বেসরকারি মহাকাশ উৎক্ষেপণ কোম্পানি কীভাবে একাধিক গ্রাহকের কাজের সমন্বয় ও সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারে।‘
উন্নত ‘চুচে-২’ রকেটের আগের অভিযানের মাত্র ২৯ দিন পরেই নতুন এ উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে। ঘন ঘন উৎক্ষেপণের চাহিদা পূরণে উন্নয়নকারী দল উপগ্রহ ও রকেট পরীক্ষার সুযোগ-সুবিধা উন্নত করেছে। পাশাপাশি একাধিক অভিযানের প্রস্তুতি ও সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতে প্রমিত কার্যপদ্ধতি গ্রহণ করেছে।
মা হাইচিং আরও বলেন, ‘চুচে-২ একটি নির্ভরযোগ্য মাঝারি সক্ষমতার উৎক্ষেপণ যান। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা, অধিক নির্ভরযোগ্যতা এবং গ্রাহকদের কার্যকর সহায়তা প্রদান। ভবিষ্যতে এটি মূলত চীনের বিশাল কৃত্রিম উপগ্রহ-নির্ভর ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক নির্মাণে ব্যবহৃত হবে। এ নেটওয়ার্কে ছোট ছোট দলে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে রকেটটি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণ সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।‘
সূত্র: সিএমজি