ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় চীন ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের দ্বিতীয় যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশ প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তোং চুন এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিয়োনো ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফরি সামসোউদ্দিন অংশ নেন।
বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, চীন ও ইন্দোনেশিয়া গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের সদস্য। তাই দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতি ও বান্দুং চেতনা এগিয়ে নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। জাতিসংঘ, এপেক ও ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করতে চায় চীন।
চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তোং চুন বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে চীন প্রস্তুত। দুই দেশের উন্নয়নের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিয়োনো এক-চীন নীতির প্রতি তার দেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, সাইবার জালিয়াতি ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় ইন্দোনেশিয়া। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফরি সামসোউদ্দিন বলেন, চীনের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়াতে প্রস্তুত তার দেশ। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশ একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থকে সমর্থন এবং বাইরের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার বিষয়ে একমত হয়।
দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বৈশ্বিক বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা, বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা সমুন্নত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
সূত্র: সিএমজি