দক্ষিণ চীন সাগরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির তৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে চীন: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

দক্ষিণ চীন সাগরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো তৎপরতা প্রতিহত করতে চীন দৃঢ় সংকল্প ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করবে বেইজিং। শুক্রবার বিকেলে সাম্প্রতিক সামরিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল ছেন শি।

সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানান, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিপাইন সম্প্রতি হুয়াংইয়ান দ্বীপ ও রেন আই রিফ এলাকায় একাধিকবার উসকানিমূলক তৎপরতা চালিয়েছে। দেশটি আরও বলেছে, নিজেদের ‘ভূখণ্ডে’ চীনের নির্দেশ মেনে চলবে না তারা। এ ছাড়া, ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনীর দাবি, গত সেপ্টেম্বর মাসে চুং ইয়ে দ্বীপ, শিয়ানবিন রিফসহ সংশ্লিষ্ট সমুদ্র এলাকায় শতাধিক চীনা নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ নিয়মিতভাবে উপস্থিত ছিল। ফিলিপাইনের দাবি, নিজেদের অধিকার রক্ষায় দেশটির সংকল্প দুর্বল করাই চীনের উদ্দেশ্য।

এসব বিষয়ে চীনের অবস্থান তুলে ধরে ছেন শি বলেন, হুয়াংইয়ান দ্বীপ এবং নানশা দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত চুং ইয়ে দ্বীপ, শিয়ানবিন রিফ ও রেন আই রিফসহ সংশ্লিষ্ট দ্বীপ ও আশপাশের সমুদ্র এলাকার ওপর চীনের অবিসংবাদিত সার্বভৌমত্ব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমুদ্র এলাকায় চীনের সার্বভৌম অধিকার ও এখতিয়ারও রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব দ্বীপ ও প্রবালপ্রাচীর ফিলিপাইনের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই তথাকথিত ‘নিজেদের অধিকার রক্ষার’ বিষয়ে কথা বলার কোনো ভিত্তি ফিলিপাইনের নেই। চীন আইন ও বিধি মেনে নিজের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব পদক্ষেপ ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পেশাদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ছেন শি আরও বলেন, কিছু সময় ধরে ফিলিপাইন আঞ্চলিক দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ উপেক্ষা করে এ অঞ্চলের বাইরের শক্তিগুলোকে টেনে এনে দক্ষিণ চীন সাগরে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। দেশটি বারবার অন্যের অধিকার লঙ্ঘন ও উসকানিমূলক তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে মিথ্যা বয়ান ছড়াচ্ছে। তার মতে, দক্ষিণ চীন সাগরে শান্তি নষ্ট করা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ফিলিপাইনই দায়ী।

সূত্র: সিএমজি